
যে ভাষা ব্যবহারের জন্য আবাসিক স্কুলে সোল মামাকুয়াকে শাস্তি পেতে হয়েছিল কয়েক দশক পর সেই একই ভাষায় তিনি অন্টারিওর আইনসভায় ক্ষমতাধরদের জবাবদিহির আওতায় আনতে যাচ্ছেন। অতীতের সরকারগুলো এই ভাষাকে কবর দিতে চেয়েছিল।
কুইন’স পার্কে ফার্স্ট নেশনের একমাত্র আইনপ্রণেতা চেম্বারে উঠে দাঁড়ান এবং ওজি-ক্রি নামে পরিচিত আনিশিনিমোইনে প্রশ্ন করেন। তার মা, বোন, ভাই, বন্ধু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা এ সময় গ্যালারি থেকে তা প্রত্যক্ষ করেন। অন্টারিওর ইতিহাসে এই প্রথম অন্টারিও আইনসভা ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চের বাইরে অন্য ভাষা ব্যাখ্যা ও লেখার অনুমতি দিল।
তার মা কেজিয়া মামাকাইয়ার জন্মদিনেরও উপহার এটি। ওইদিনই তিনি ৭৯ বছর বয়সে পা দেন। তার প্রয়াত পিতা জেরি মাামকাউয়ার প্রতিও স্বীকৃতি এটি।
এনডিপির আইনপ্রণেতা ৫৩ বছর বয়সী সোল মামাকাউয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভাষা জাতীয়তা, ভাষা পরিচিতি। ভাষা হলো আমি এবং আমার লোকেরা কোথা থেকে এসেছিল সেই ইতিহাস। এটা গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, আমাদের মধ্যে বহু মানুষ আমাদের ভাষা হারিয়ে ফেলছি। সম্প্রীতি ও আমাদের ভাষা পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ বলে আমি মনে করি।
কয়েক দশক আগে ক্যাথলিক এবং প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চগুলোর সহায়তায় ফেডারেল সরকার বিভিন্ন উপায়ে আদিবাসী ভাষাগুলো হত্যার চেষ্টা চালায়। আবাসিক স্কুল ছিল এর মধ্যে অন্যতম মাধ্যম। স্কুলগুলো শিশুদের তাদের পরিবারের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনত এবং তাদেরকে ইংরেজি বলতে বাধ্য করত। গত সপ্তাহে এভাবেই আদিবাসী ভাষা ধীরে মরে যেতে থাকে।
মামাকাউয়ার এই ইতিহাস সৃষ্টির সাক্ষী হতে উত্তরপশ্চিম অন্টারিওর তার কিংফিশার লেক ফার্স্ট নেশনের প্রায় ২৫ জন এখানে আসেন। তাদের সঙ্গে ছিল ৭৫ জন অন্যান্য অতিথি। তাদের মধ্যে ছিলেন আদিবাসী নেতারা।
মামাকাউয়া বলেন, যারা তাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে তাদের জন্য আমার ভাবনা হয়। আবাসিক স্কুলে যাদেরকে তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলতে দেওয়া হয়নি তাদের জন্য আমার ভাবনা হয়। আমার মায়ের কথা আমার মনে হয়। বর্তমানে তিনি ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন এবং তার ভালো দিন যেমন আছে একইসঙ্গে খারাপ দিনও আছে।

