
মহামারির সময় অন্টারিও সরকার বাবা-মায়েদের নগদ অর্থ দেওয়া শুরু করে। উদ্দেশ্য ছিল স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়িতে বসে শিক্ষার যে খরচ তা পুষিয়ে দেওয়া।
প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড পরবর্তীতে কর্মসূচিটির একাধিক সংস্করণের প্রস্তাব করেন। সন্তানদের পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়া রোধে টিউটর বাবদ বাবা-মায়েদের শত শত ডলার প্রস্তাব করেন। কিন্তু ২০২০ সাল থেকেই শত শত বাবা-মা এই তহবিল না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন।
কর্মসূচিটির প্রথম তিনটি পর্যায়ে ৩০ লাখের বেশি আবেদন গৃহীত হয়, যাতে অর্থ পরিশোধ করা হয় ১১০ কোটি ডলারের বেশি। ফ্রিডম অব ইনফরমেশন আবেদনের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপাত্তে দেখা যায় প্রথম তিনটি কর্মসূচির অর্থ ঠিক কোথায় গেছে।
প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড প্রথম কর্মসূচি সাপোর্ট ফর ফ্যামিলি ঘোষণা করেন ২০২০ সালে। এর আওতায় ১২ বছর ও তার কম বয়সী শিশুপ্রতি সরাসরি ২০০ ডলার এবং ২১ বছরের কম বয়সী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুপ্রতি ২৫০ ডলার সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
২ হাজার ৬০০ জনের কিছু বেশি বাবা-মা এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করেন এবং এতে অর্থ দেওয়া হয় ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৩০০ ডলার। সবচেয়ে বেশি আবেদন আসে সল্ট সেইন্ট মেরি থেকে। এখানে বাবা-মায়েদের নগদ ১৪ হাজার ৬০০ ডলার দেওয়া হয়। সবচেয়ে বেশি অর্থ পাওয়া পাঁচটি অঞ্চলের মধ্যে আরও রয়েছে ব্র্যাম্পটন, টরন্টো এবং মিল্টন। জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং প্রত্যেক অঞ্চলে শিশুর সংখ্যার কারণে এমনটা হতে পারে।
সাপোর্ট ফর লারনার্স প্রোগ্রামের আওতায় দ্বিতীয় দফায় অর্থ দেওয়া হয় ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে করা আবেদনের বিপরীতে। এই দফায় ১১ লাখের বেশি বাবা-মা আবেদন করেন, যাতে সরকারের খরচ হয় ২২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থ পেয়েছেন মিল্টনের বাবা-মায়েরা ২৬ লাখ ডলারের বেশি। এরপর সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছেন ব্র্যাম্পটন ও মিসিসোগার বাবা-মায়েরা।
এর মধ্যেই তৃতীয় দফার অর্থ দেওয়া হয়। এই পর্যায়ে ২১ লাখের বেশি বাবা-মা আবেদন করেন, যাতে সরকারের ব্যয় হয় ৮৮ লাখ ডলার। অন্টারিও কোভিড১৯ চাইল্ড বেনিফিট বাবা-মায়েদের কিছুটা বেশি অর্থ দেয় এবং তার পরিমাণ শিশুপ্রতি প্রায় ৪০০ ডলার। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর ক্ষেত্রে পরিমাণটা ৫০০ ডলার পর্যন্ত। এই পর্যায়ে যেসব এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি আবেদন আসে এবং অর্থও বেশি ব্যয় হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আবারও রয়েছে মিল্টন, ব্র্যাম্পটন, মিসিসোগা এবং ব্যারি।

