
আত্মহত্যার চিন্তা জেঁকে বসার পরও লরেল ওয়াকারকে বাঁচিয়ে রেখেছিল কেবল আশা। মানসিকভাবে অসুস্থ্যদের মৃত্যুতে মেডিকেল সহায়তাকে কানাডা সম্প্রসারণ করলে একই অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়তে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে সেটা ছিনিয়ে নেওয়া হবে বলে মনে করেন তিনি।
১৭ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সম্প্রসারণের ব্যাপারে বলা হচ্ছে, অনিরাময়যোগ্য শারীরিকভাবে অসুস্থদের মতো নিরাময় অযোগ্য মানসিক রোগীদেরও একইরকম এমএআইডি সহায়তা না দেওয়াটা অক্ষমতার ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক। তবে এর বিরোধিতা করছেন সমালোচকরা। তাদের দাবি, মানসিক অসুস্থরা সেরে উঠবেন কি উঠবেন না সে ব্যাপারে অনুমান করার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
বিচারমন্ত্রী আরিফ ভিরানি ১৩ ডিসেম্বর বলেন, এটা আমরা ১৭ মার্চ কার্যকর করব নাকি স্থগিত করব মন্ত্রিসভা সে ব্যাপারে যৌথ সংসদীয় কমিটি, মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞ এবং অন্য অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নেবে।
৪৪ বছর বয়সী ওয়াকার বলেন, আমরা উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে বিপন্ন লোকজনকে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে এবং সরকারি অর্থায়নের বাইরে থাকা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাবদ ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণেই মানসিক রোগীদের ক্ষেত্রে এমএআইডির প্রয়োগ অবিবেচনাপ্রসূত বলে আমার কাছে মনে হয়।
বয়স যখন ২০-এর কোটায় তখন উদ্বেগ ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে ভোগা শুরু করেন ওয়াকার। ওই সময় তাকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়। বিষণœতার সঙ্গে তার লড়াই শুরু হয় হাইস্কুলে পড়া অবস্থায়। তিনি বলেন, এজন্য যে সেবার প্রয়োজন ছিল তার নিজ প্রদেশ নোভা স্কশিয়ায় তা ছিল না। অন্টারিওর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এর চিকিৎসা নিতে দীর্ঘ ২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে।
ওয়াকার বলেন, ২০০৫ সালে আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। এর পরিবর্তে আমার স্থান হয় হাসপাতাল। আমি যৌক্তিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম না। এবং আমি এমএআইডির জন্য আবেদন করি। এক দশক আগে চিকিৎসা গ্রহণ শেষ করার পর সরকারি ব্যবস্থা থেকে আর কোনো মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হয়নি তার।
তিনি বলেন, আমি আমার অন্ধকার সময়গুলো মনে করতে পারি এবং অসহায় লাগে। প্রকৃতপক্ষে আমি আমার জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা ভেবেছিলাম এবং চেষ্টাও করেছিলাম। এটা আমার কাছে খুবই বেদনার। মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি যারা এমএআইডির কথা ভাবছেন তাদেরকে অনেক পীড়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। যারা বারবার জরুরি কক্ষে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন সেইসব লোকদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত তহবিলের জোগান না দেওয়া আর কোনো আশা নেই এটা বলা একই কথা।

