
কানাডায় বয়স্ক নাগরিকদের নিখোঁজ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ও ডিমেনশিয়া বাড়তে থাকায় সামনের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
কোভিড-১৯ এর সময় বয়স্কদের নিখোঁজের ঘটনা অতটা ছিল না। তবে কুইবেক, সাস্কেচুয়ান এবং ম্যানিটোবার পুলিশ বাহিনী এ বছর ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার তথ্য দিয়েছে।
সিনিয়র অ্যাডভোকেসি অর্গানাইজেশন ক্যানএজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লরা ট্যাম্বলিন ওয়াটস বলেন, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির অর্থ হলো আর বেশি সংখ্যক জ্যেষ্ঠ নাগরিকের নিখোঁজ হওয়া। পুলিশের পরিসংখ্যানে এর আংশিক তথ্যই থাকছে। কারণ, পুলিশকে জানানোর আগেই অধিকাংশ লোককে কেয়ারগিভার এবং পরিবারের সদস্যরাই খুঁজে বের করেন।
ট্যাম্বলিন ওয়াটস বলেন, পুলিশের প্রতিবেদনকে হিমশৈলের চূড়া হিসেবেই দেখা উচিত। কিন্তু হিমশৈলটি দিন দিন বড় হচ্ছে। একইভাবে চূড়ার মানুষগুলোর সংখ্যাও লক্ষণীয়ভাবে বড় হচ্ছে।
৬০ বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষের নিখোঁজ হওয়া মানুষের তথ্য চেয়ে কানাডাজুড়ে পুলিশবাহিনীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছল দ্য কানাডিয়ান প্রেস। নির্ধারিত সময়েল মধ্যে অধিকাংশ পুলিশ বাহিনীই তথ্য সরবরাহ করেনি। অথবা পরিসংখ্যান নেই বলে জানিয়েছে। কিন্তু যারা দিয়েছে তাদের উপাত্ত বলছে, সংখ্যাটি বাড়ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ট্রিয়ল পুলিশ ৬০ বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষের হারিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত ৪৪২টি ফোন পেয়েছে। ২০২২ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৩৩৯টি। ২০২০ সালের একই সময়ে সংখ্যাটি ছিল ২২৪টি। ম্যানিটোবায় আরসিএমপি চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের হারিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত ১০৫টি খবর জানতে পেরেছে। ২০২২ সালে সংখ্যাটি ছিল যেখানে ৬১।
উইনিপেগ পুলিশ জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত তারা ৬০ বছর ও তার বেশি বয়সী ১০৪ জনের হারিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছেন। ২০২২ সালে যেখানে সংখ্যাটি ছিল ১২৫ এবং ২০১৯ সালে ৬৪টি। তবে তাদের সবাইকেই পরে খুঁজে পাওয়া গেছে।
সাস্কাটুন পুলিশ জানিয়েছে, মেডিক্যাল ডিজঅ্যাবিলিটি থাকা ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক নিখোঁজ হন চলতি বছর ২৬৭ জন। ২০২২ সালে যেখানে সংখ্যাটি ছিল ১৮। তবে ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ ৪৭ জন নিখোঁজ হন।

