
কানাডিয়ান এয়ারলাইন্সগুলো বর্তমানে এমন ভাড়া প্রস্তাব করছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। তবে এ কম ভাড়া এয়ারলাইন্সগুলোর যাত্রী ফিরিয়ে আনার কৌশল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খুব বেশিদিন এ ভাড়া থাকবে না বলেও জানান তারা।
ওয়েস্টজেট বর্তমানে টরন্টো থেকে ক্যালগেরিগামী ওয়ান-ওয়ে টিকিটের মূল্য নিচ্ছে ১১৭ ডলার। আর টরন্টো থেকে ভ্যানকুভারে টিকিটের মূল্য এর চেয়ে মাত্র ১০ ডলার বেশি। আর টরন্টো থেকে কেলোয়ানায় বিরতিহীন ফ্লাইটের ভাড়া গুনতে হবে ১৩৪ ডলারের মতো। এটা কেবল যে লকডাউনের সময়কালের জন্য প্রযোজ্য তা নয়, তার পরেও টিকিটের এ মূল্যছাড় অব্যাহত থাকবে। ওয়েস্টজেটের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের শেষ পর্যন্ত এ সুযোগ পাবেন যাত্রীরা।
রায়ারসন ইউনিভার্সিটির টেড রজার্স স্কুল অব হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজমের পরিচালক ফ্রেডেরিক ডিমানশে যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, সস্তায় টিকিট কিনতে চাইলে এখনই সময়। আমার মনে হয় না এ সুযোগ অনেকদিন থাকবে।
একাধিক কারণে এয়ার কানাডা ও ওয়েস্টজেটের মতো কানাডিয়ান এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের মূল্য কমিয়েছে বলে তার বিশ^াস। তিনি বলেন, সরকার শিগগিরই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে যাচ্ছে। সুযোগটি কাজে লাগানো এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টিকিটের মূল্য কমিয়ে চাহিদা বাড়ানো সুযোগটি কাজে লাগানোর একটা উপায়। এটাকে মূল্য স্থিতিস্থাপকতা। বিপণনের এটা প্রথাগত কৌশলÑআপনি যখন মূল্য কমাবেন তখন চাহিদা বাড়বে।
কানাডিয়ানদের মধ্যে ভ্রমণের বিষয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনাও আরেকটা কারণ বলে মনে করেন ডিমানশে। তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি ভ্রমণের ব্যাপারে কানাডিয়ানরা এখনও আত্মবিশ^াসী নয়। ভ্রমণ করা যে এখন নিরাপদ সেটা তাদেরকে বলতে হবে এবং টিকিটের মূল্য কমানো সেটাও একটা উদ্দেশ্য।
তবে চাহিদা সর্বোচ্চে পৌঁছলে এয়ার কানাডা ও ওয়েস্টজেটের টিকিটে এ মূল্যছাড় আর থাকবে না। কারণ এটা টেকসই পদ্ধতি নয়। তিনি বলেন, টরন্টো থেকে ভ্যানকুভারের টিকিটের মূল্য ১২৭ ডলার রাখলে এয়ারলাইনের বিশেষ কিছু থাকবে না।
ওয়েস্টজেটও সেটা স্বীকার করেছে। সিটিভি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, চাহিদা বাড়লে টিকিটের মূল্যও বাড়বে। এয়ার কানাডা তাদের বিৃবতিতে উল্লেখ করেছে, নানা কারণে তাদের ভাড়া ওঠা-নামা করে। চাহিদা তার একটি। খবর: দ্য কানাডিয়ান প্রেস।

