
সরকারি খাতের কয়েকশ ধর্মঘটী কর্মী এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে টরন্টোর বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ করেছেন। প্রদেশব্যাপী প্রায় ৪ হাজার কর্মীর প্রতি সংহতি জানাতে সমন্বিত একাধিক সমাবেশের অংশ এটি।
বুধবার ডাউনটাউন টরন্টোর এক সমাবেশে বক্তারা একটি বন্দোবস্তে পৌঁছানোর আহ্বান জানান, যাতে করে তারা বেতন বৈষম্যের কারণে বঞ্চিত মজুরি তারা ফেরত পান। সেই সঙ্গে বেসরকারি কোম্পানিকে দেওয়া করদাতাদের ১০০ কোটি ডলারের স্বচ্ছতা দাবি করেন তারা। এসব কোম্পানি সরকারি সেবা পরিচালনা করে।
অন্টারিও পাবলিক সার্ভিসেস এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের (ওপিএসইইউ) প্রেসিডেন্ট জেপি হর্নিক ইয়র্কভিলে বুধবার বলেন, অঙ্কটা বিশাল। আমরা কি অর্থের মূল্য পাচ্ছি? জবাবদিহিতা কোথায়? অ্যাসার্টা নামে একটি কোম্পানির সদরদপ্তরের পাশেই এই কথা বলেন তিনি।
বিক্ষোভ বে স্ট্রিটের দিকে যায়, সাময়িক সময়ের জন্য বিরতি নেয় এবং ব্লুর স্ট্রিটের যানবাহন আটকে দেয়। এরপর তারা একটি মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে থামে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের একজন প্যাট্রিসিয়া ক্রুকস। সিস্টারিংয়ে কমিউনিটি সাপোর্ট ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করেন তিনি। ক্রুকস বলেন, তার সংস্থা যাতে তহবিল পায় সেই লক্ষ্যে তিনি এই বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বিল ১২৪ এর কারণে হারানো মজুরিও ফেরত চান তিনি। এই আইনে সরকারি খাতের কর্মীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেয় ১ শতাংশ। পরবর্তীতে এই আইন সংবিধানবিরোধী বলে রায় আসে।
তিনি বলেন, আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে নিঃশেষিত এবং নিজেদের টিকিয়ে রাখতে আমাদের আরও অর্থ প্রয়োজন।
অন্টারিওর শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এ ব্যাপারে বলেন, বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে উপরোল্লেখিত অর্থ পরিশোধ বেড়ে যাওয়ার কারণ তাদের ভূমিকা ও সেবা সম্প্রসারণ। এসব কোম্পানির মধ্যে দুটি কোম্পানি ডব্লিউসিজি এবং সার্কো গত অর্থবছরে দেড় লাখেল বেশি গ্রাহককে সেবা দিয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৪০ হাজার বেশি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল সামাজিক সহায়তা ও প্রতিবন্ধী। এই সেবা গ্রহীতের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি চাকরি পেয়েছেন।
এ ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে অ্যাসার্টা বা ডব্লিউসিজি কেউ কোনো সাড়া দেয়নি। যদিও সার্কো বলেছে, তারা এক হাজার ১০০ লোককে চাকরি দিয়েছে। অন্টারিও সরকার তাদেরকে যে নির্দেশনা ও নীতিমালা দিয়েছে তার মধ্যে থেকেই কাজ করেছে তারা।

