Latest Posts

জেট বিতর্কের ঝড় থামতেই কিছুটা স্বস্তিতে ফোর্ড সরকার, জনমতে ফের বাড়ছে ব্যবধান

- Advertisement -
কয়েক সপ্তাহ আগেও অন্টারিওর রাজনৈতিক অঙ্গনে ডগ ফোর্ড সরকারকে ঘিরে অস্বস্তি ছিল তুঙ্গে

কয়েক সপ্তাহ আগেও অন্টারিওর রাজনৈতিক অঙ্গনে ডগ ফোর্ড সরকারকে ঘিরে অস্বস্তি ছিল তুঙ্গে। সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বিমান কেনার উদ্যোগ নিয়ে বিরোধীদের কড়া আক্রমণ, জনঅসন্তোষ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ক্ষমতাসীনদের জন্য পরিস্থিতি ছিল অস্বাভাবিক চাপের। তবে নতুন এক জনমত যাচাই বলছে, সেই ধাক্কার পর অন্তত সাময়িকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা সামলে উঠছে শাসকপক্ষ।

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, আজই প্রাদেশিক ভোট হলে শাসক দলই সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাবে। ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও ডগ ফোর্ডের দলকেই এগিয়ে রাখছেন, আর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলটির সঙ্গে ব্যবধানও আগের তুলনায় বেড়েছে। অন্যদিকে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে থাকা দলগুলো সমর্থনের হিসাবে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।

- Advertisement -

জনমত বিশ্লেষক ডেভিড কোলেত্তোর মতে, গত কয়েক সপ্তাহে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার তুলনায় এখনকার চিত্র ভিন্ন। সরকারের জনপ্রিয়তায় পতন পুরোপুরি থামেনি, কিন্তু অন্তত দ্রুত নিচের দিকে নামার প্রবণতা আপাতত কমেছে। বিশেষ করে বৃহত্তর নগরাঞ্চল ও রাজধানীকেন্দ্রিক অঞ্চলে ক্ষমতাসীনদের অবস্থান এখনও শক্তিশালী রয়েছে।

তবে সরকারের জন্য সব খবর স্বস্তির নয়। জরিপে সরকারের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশকারীর সংখ্যা এখনও সন্তুষ্টদের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ সাম্প্রতিক উন্নতির ইঙ্গিত থাকলেও জনগণের বড় একটি অংশ এখনও সরকারের কার্যক্রমে আস্থা রাখতে পারছেন না।

ডগ ফোর্ডের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। আগের তুলনায় তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব কিছুটা বেড়েছে বটে, কিন্তু নেতিবাচক মতামতের পাল্লাই এখনো ভারী। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিমান কেনা নিয়ে বিতর্ক এবং সরকারি জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় তার ভাবমূর্তি উল্লেখযোগ্য চাপে পড়েছিল।

বিরোধী নেতাদের জনপ্রিয়তার হিসাবেও ভিন্ন বার্তা মিলেছে। নিউ ডেমোক্রেটিক দলের নেতা মারিত স্টাইলস তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন পেয়েছেন। লিবারেলদের অন্তর্বর্তী নেতা জন ফ্রেজার এবং সবুজ দলের নেতা মাইক শ্রাইনারকেও অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, যদিও তাদের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন।

বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল এপ্রিল মাসে। তখন ফোর্ড সরকার প্রায় তিন কোটি ডলারের কাছাকাছি ব্যয়ে ব্যবহৃত একটি ব্যবসায়িক বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের ব্যাখ্যা ছিল—প্রিমিয়ারের প্রদেশজুড়ে সফর সহজ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার করতেই এই উদ্যোগ। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের সময়ে এমন সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে ভালোভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

সমালোচনার চাপ বাড়তে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার পিছু হটে। ডগ ফোর্ড প্রকাশ্যে জানান, মানুষের প্রতিক্রিয়া তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। পরে বিমানটি ফেরত দেওয়া হলেও পুরো প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক ব্যয়ের দায় শেষ পর্যন্ত জনগণের অর্থ থেকেই মেটাতে হচ্ছে।

মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরিচালিত এই জনমত যাচাইয়ে অন্টারিওর এক হাজারের বেশি ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ফলাফলে সামান্য তারতম্যের সুযোগ থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার একটি স্পষ্ট ধারণা তুলে ধরছে।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.