
গত ২৩ ও ২৪ মে স্থানীয় একটি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই উৎসব প্রবাসী বাঙালিদের জন্য পরিণত হয়েছিল এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল তুখোড় অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের পরিবেশনায় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গল্প “মশা”-এর পাঠাভিনয়। তাঁর কণ্ঠনির্ভর অভিনয় দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পৌষালী ব্যানার্জী ও অন্তরা মিত্র। তাঁদের গানে উৎসবমঞ্চ হয়ে ওঠে আরও বর্ণিল ও আবেগঘন।
এছাড়া কৃষ্ণকলি সেনগুপ্ত পরিচালিত শিশুদের কয়্যার “বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বাণী” দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে। ড. সংযুক্তা ব্যানার্জীর পরিচালনায় “ডন অব এ নিউ এইজ” এবং পুজা বিশ্বাসের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় “উত্তম কুমার – দ্য শো ম্যান অব বেঙ্গলি সিনেমা” ছিল দর্শকদের জন্য বিশেষ উপভোগ্য আয়োজন। নাট্যদল শংখচিল থিয়েটারের পরিবেশনায় নাটক “অডিশন” এবং ব্যান্ড দল “বাঙালিয়ানা”-র প্রাণবন্ত সংগীতানুষ্ঠান উৎসবকে দেয় ভিন্নমাত্রা।
বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়ার মধ্যেও বিপুল সংখ্যক দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি প্রমাণ করে, নান্দনিক ও সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থা কতটা জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ।
২০০৪ সালে কয়েকজন সংস্কৃতিমনা বাঙালির ভাবনা ও আড্ডা থেকে জন্ম নেয় টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থা (টিএসএস)। প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা, বাংলা ভাষা ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি।
টিএসএস-এর অনুষ্ঠান আয়োজনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে দীর্ঘ বক্তৃতা পর্বের কোনো স্থান নেই। সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পরিচালকবৃন্দ স্পন্সর ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আজীবন সম্মাননা প্রদান করেন।
এ বছর আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সঞ্জীব মুখার্জীকে। চিকিৎসাক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদান এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করে টিএসএস।
“সম্প্রীতির বন্ধনে এক হোক মানবতা” শীর্ষক এ উৎসব উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও প্রকাশিত হয় দৃষ্টিনন্দন স্মারকগ্রন্থ।
দর্শক-শ্রোতাদের টিকিট ক্রয়, বিজ্ঞাপনদাতাদের সহযোগিতা, শুভানুধ্যায়ীদের আর্থিক অনুদান এবং শিল্পী-কলাকুশলীদের শ্রম, সময় ও মেধার সম্মিলিত প্রয়াসে এবারের উৎসব হয়ে ওঠে সার্থক, উচ্ছ্বল, প্রাণবন্ত ও রঙিন এক সাংস্কৃতিক আয়োজন।
প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিক চর্চা ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাঙালিত্বের চেতনা জাগ্রত রাখতে টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থার এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

