
সাইবার হামলায় হাজারো স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহার করা একটি সিস্টেম বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। কারণ, শিক্ষার্থীরা চূড়ান্ত পড়ালেখার চেষ্টা করছিলেন। এ ছাড়ার এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার প্রযুক্তিনির্ভরতার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।
শাইনিহান্টারস নামের একটি হ্যাকিং গ্রুপ ক্যানভাসে হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইমিসফটের হুমকি বিষয়ক বিশ্লেষণ লুক কনোলি। ক্যানভাসের মূল কোম্পানি ইনস্ট্রাক্টরের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
গ্রেড, কোর্স নোট, অ্যাসাইনমেন্ট, লেকচার ভিডিও এবং আরও অনেক কিছুর ব্যবস্থাপনায় ক্যানভাস ব্যবহৃত হয়ে থাকে। হ্যাকিং গ্রুপটি অনলাইনে এক পোস্টে জানিয়েছে, বিশ^ব্যাপী প্রায় ৯ হাজার স্কুলের ওপর এই হামলার প্রভাব পড়েছে। শত শত কোটি ব্যক্তিগত বার্তা ও অন্যান্য নথিতে হামলাকারীরা প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কনোলি।
এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হন এবং অন্যরাও ক্যানভাসে ঢুকতে ব্যর্থ হচ্ছেন কিনা জানতে চান। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এই ভেবে যে, তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্ল্যাটফরমটিতে থাকা কোর্স ম্যাটেরিয়াল তারা হয়তো আর দেখতে পাবেন না।
কনোলি যে স্ক্রিনশট সরবরাহ করেছেন তাতে দেখা যায়, গ্রুপটি রোববার ডেটা ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া শুরু করেছে। এ জন্য তারা সময় বেঁধে দিয়েছে ১২ মে পর্যন্ত। কনোলি বলেন, এই তারিখ এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চাঁদার অর্থ নিয়ে হয়তো দর-কষাকষি চালু আছে।
এ ঘটনায় ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো এবং ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া উভয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছে। সেখানে তারা বলেছে, পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের শিখন পদ্ধতি অপ্রবেশগম্য থাকবে।
কনোলি বলেন, ক্যানভাসের হামলা পাওয়ারস্কুলের হামলার মতোই। পাওয়ারস্কুলের শিখন ব্যবস্থাপনা টুল সরবরাহ করে থাকে। ওই হামলার ঘটনায় ম্যাসাচুসেটস কলেজের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল।

