
অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের উত্তরাধিকার তালিকা থেকে অপসারণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। টোকিও সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
কার্নি বলেন, মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে, তা শুধু তার রাজকীয় উপাধি বাতিলের কারণই নয় একইসঙ্গে তাকে রাজকীয় উত্তরাধিকার তালিকা থেকেও অপসারণের যৌক্তিকতা তৈরি করেছে। যদিও বাস্তবে তিনি সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় অনেক পেছনের দিকে অবস্থান করছেন, তবুও নৈতিকতার প্রশ্নে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
গত মাসে সরকারি কার্যালয়ে অসদাচরণের অভিযোগে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে নানা বিতর্ক রয়েছে, বিশেষ করে প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে। এপস্টিন কেলেঙ্কারির সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বহুবার তার নাম উঠে এসেছে এবং বিষয়টি ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্যও বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
গ্রেপ্তারের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছেন। ফলে পুরো ঘটনাটি আইনি ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
মার্ক কার্নি বলেন, রাজতন্ত্রের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও জনমতের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তার মতে, যদি কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ড রাজতন্ত্রের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, তাহলে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে উত্তরাধিকার তালিকা থেকে অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজকীয় উত্তরাধিকার তালিকা থেকে কাউকে বাদ দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। কার্নির এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও কানাডা একটি কমনওয়েলথ রাষ্ট্র এবং ব্রিটিশ সম্রাট সেখানে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃত, তবুও এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ইতোমধ্যেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে। ফলে ভবিষ্যতে তাকে ঘিরে যে কোনো সিদ্ধান্ত রাজতন্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা ও জনমতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, মার্ক কার্নির মন্তব্য শুধু একজন বিতর্কিত রাজপরিবারের সদস্যকে ঘিরে নয়; বরং আধুনিক সময়ের রাজতন্ত্র, নৈতিকতা এবং জনদাবির সম্পর্ক নিয়েও নতুন প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে।

