
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বারবার শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটার পর একাধিক স্কুলে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডারহাম রিজিয়নাল পুলিশ সার্ভিস (ডিআরপিএস)। কর্তৃপক্ষগুলোর তথ্য অনুযায়ী, টিম কম নামে পরিচিত সুসমন্বিত একটি গ্রুপের সম্পৃক্তায় হুমকির বিষয়টি সামনে আসছে। টিম কম দি কমিউনিটির সংক্ষিপ্ত রূপ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, অনলাইন অপরাধীদের সমন্বয়ে নেটওয়ার্কটি গড়ে উঠেছে। তরুণদের অন্যায় কাজে ব্যবহারের জন্য জবরদস্তি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে তারা।
শুক্রবার দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিআরপিএস বলেছে, অপরাধীরা প্রায় সময়ই বিশ^াস স্থাপন করে, ভীতি বা সম্মানহানীর কথা বলে কার্যক্রম গোপন রাখে এবং ভুক্তভোগীকে ক্ষতিকর ও সহিংস কর্মকা-ে বাধ্য করে। শেষ পর্যন্ত তা অপরাধে পর্যবসিত হয়।
অপরাধীরা জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফরমগুলোর ৮ বছর বয়সী শিশুদের লক্ষবস্তুতে পরিণত করে। এসব প্ল্যাটফরমের মধ্যে রয়েছে ডিসকর্ড, টেলিগ্রাম, রবলক্স, মাইনক্র্যাফট, টুইচ এবং স্টিম। অপরাধীরা এক্ষেত্রে যেসব কৌশল অবলম্বন করে তার মধ্যে রয়েছে বন্ধুত্ব বা রোমান্টিক কথাবার্তা বলে তাদের আস্থা অর্জন। অনেক সময় তারা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। ভুক্তভোগীরা এরপর ক্ষতিকর বা অনিরাপদ কর্মকা-ে বাধ্য হয়। এসব কর্মকা-ের মধ্যে রয়েছে অনুপযুক্ত ও নিপীড়নমূলক ছবি বিনিময়, নিজের জন্য অথবা অন্যের বা প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর কাজে সম্পৃক্ত হওয়া, উদ্বগজনক ইউজারনেম, প্রতীক অথবা বার্তা প্রদর্শন এবং শিশুদের অপরাধে অংশগ্রহণে বাধ্য করা।
শিুশদের মধ্যে নিজেকে সরিয়ে রাখা, গোপন করা, মেজাজের পরিবর্তন অথবা অ্যাকডেমিক ফলাফলে পতনের মতো উদ্বেগজনক কোনো আচরণ ঘটছে কিনা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বাবা-মায়েদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যান্য উদ্বেগজনক আচরণের মধ্যে রয়েছে এনপ্রিকপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করা, ফোন অথবা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া অথবা গোপনে তা ব্যবহার করা এবং চরম ও ক্ষতিকর অনলাইন মতাদর্শের আগ্রহ তৈরি হওয়া।
ডিআরপিএস তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছে, অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ারের বিপদ নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার মধ্য দিয়ে আপনি তাদের সুরক্ষিত করতে পারেন। সেই সঙ্গে কোন ধরনের প্ল্যাটফরম তারা ব্যবহার করছে এবং কোন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে সে ব্যাপারে সরাসরি তাদের কাছে জানতে চান।

