
বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব কানাডা (বিবিসিসি)-এর সভাপতি আলমগীর এম. রহমান এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত ৩ নভেম্বর সোমবার ঢাকায় কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন।
ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ পরিবেশে। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিবিসিসির প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল মোতালেব (উপদেষ্টা), ইকবাল হামিদ কুরেশী আদনান (উপদেষ্টা), মো. আব্দুল মোমেন (উপদেষ্টা) এবং মজুমদার আরিফুর রহমান (সাবেক পরিচালক ও সদস্য)।
কানাডার হাইকমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অজিত সিং, কাউন্সেলর ও সিনিয়র ট্রেড কমিশনার মিস ডেবরা বয়েস এবং ট্রেড কমিশনার মো. কামালউদ্দিন ।
বৈঠকে বিবিসিসির সভাপতি আলমগীর এম. রহমান সংগঠনের ইতিহাস, লক্ষ্য, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
হাইকমিশনার অজিত সিং বিবিসিসির কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, কানাডায় অবস্থিত এই চেম্বার দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও জানান, গত ২৬ অক্টোবর ট্রেড কমিশনারদের সঙ্গে বিবিসিসি প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর তিনি সংক্ষিপ্তভাবে সংগঠনটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন। তবে এবার সরাসরি প্রতিনিধিদলের কাছ থেকে শুনে তিনি চেম্বারের উদ্যোগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বৈঠকে আলোচিত প্রধান বিষয়সমূহ ছিল—
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা: দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি।
রপ্তানিকারকদের সহায়তা: বাংলাদেশি পণ্যের কানাডায় বাজার সম্প্রসারণ এবং কানাডিয়ান কৃষিপণ্য (ডাল, গম, ক্যানোলা তেল ইত্যাদি) আমদানিতে উৎসাহ প্রদান।
শিক্ষা ও দক্ষতা বিনিময়: শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধি।
সবুজ ও টেকসই ব্যবসা: পরিবেশবান্ধব ব্যবসায়িক উদ্যোগে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা।
ক্যানচ্যামের সঙ্গে সম্পর্ক: কানাডা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CanCham)-এর সঙ্গে বিবিসিসির সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান।
কানাডায় বিজনেস সামিট: বিবিসিসির উদ্যোগে কানাডায় আসন্ন বিজনেস সামিট আয়োজন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা; হাইকমিশনের পরামর্শ—যথেষ্ট প্রস্তুতির পর তা আয়োজন করা।
এছাড়া কানাডার হাইকমিশন পরামর্শ দেয় যে, যারা কানাডা ভিসার জন্য আবেদন করবেন—বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও ভ্রমণকারীরা—তাদের কমপক্ষে তিন থেকে চার মাস আগে আবেদন করা উচিত, কারণ বর্তমানে ভিসা প্রক্রিয়া কিছুটা কঠোর হয়েছে।
বিবিসিসি প্রতিনিধিদল বৈঠকটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে অভিহিত করেছে। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

