
অন্টারিওর স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীরা ইহুদিবিদ্বেষের শিকার হচ্ছে বলে ফেডারেল সরকারের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা উদ্বেগের। একইভাবে স্কুল ও স্কুল বোর্ডগুলোর ইহুদিবিদ্বেষের সমস্যা সমাধানে অনীহা অথবা ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করাও সমানভাবে আশঙ্কাজনক।
ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর সামাজিক বিজ্ঞানের প্রখ্যাত অধ্যাপক ও রয়্যাল সোসাইটি অব কানাডার ফেলো রবার্ট ব্রাইমের ‘অ্যান্টিসেমিটিজম ইন অন্টারিও’স কে-১২ স্কুলস’ একটি গবেষণায় গত জুলাইয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণার জন্য ব্রাইম ৫৯৯ জন ইহুদি বাবা-মার ওপর সমীক্ষা চালান। অন্টারিওর কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে গ্রেড ১২ পর্যন্ত শ্রেণির ইহুদি শিশুদের লক্ষ্য করে ইহুদিবিদ্বেষমূলক ৭৮১টি ঘটনার কথা পুলিশকে জানিয়েছেন। ঘটনাগুলো ঘটেছে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে।
ব্রাইম ইহুদিবিদ্বেষমূলক যেসব ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন তার মধ্যে একটি ছিল এ রকম। অটোয়ার একটি স্কুলে অধ্যয়নরত ছয় বছর বয়সী একটি মেয়ে শিশুকে তার শিক্ষক বলেন যে, সে অর্ধেক মানুষ। কারণ, তার বাবা-মায়েল মধ্যে একজন ইহুদি।
ওয়াটারলুতে ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়েকে ঘিরে রেখে পাঁচজন ছেলে সিয়েগ হেইল বলে চিৎকার করতে থাকে। একাধিক দিন বিভিন্ন সময় তারা এটা করে। যদিও মেয়েটি তাদেরকে থামার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেনি।
টরন্টোর উত্তরে ইয়র্ক রিজিয়নের গ্রেড ৯ এর একজন শিক্ষার্থীকে তারই একজন সহপাঠী সন্ত্রাসী, ধর্ষক ও শিশু হন্তারক বলে অভিযুক্ত করে।
ব্রাইম তার গবেষণায় বলেন, ইহুদিবিদ্বেষমূলক প্রতি ছয়টি ঘটনার মধ্যে প্রায় একটি শিক্ষকের দ্বারা ঘটেছে অথবা তারা এর অনুমোদন দিয়েছেন। প্রতি ১০টি ঘটনার মধ্যে ছয়টির কোনো তদন্ত করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। বরং, সেটি যে ইহুদিবিদ্বেষ তারা তা অস্বীকার করেছে অথবা তাদেরকে দূর শিক্ষণ বা অন্য স্কুলে চলে যাওয়ার কথা বলে অপরাধীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীকেই শাস্তি দিয়েছে।
ব্রাইমের গবেষণা অনুযায়ী, ইহুদিবিদ্বেষী ৪০ শতাংশ ঘটনা নাৎসি স্যালুট সংক্রান্ত। ৬০ শতাংশ ঘটনা ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ সংক্রান্ত।
ব্রাইম তার উপসংহারে বলেছেন, অন্টারিওর স্কুলগুলোতে ইহুদিবিদ্বেষের যেসব ঘটনা ঘটছে তার সবগুলো প্রকাশ্যে আসছে না। কারণ, বহু বাবা-মা এবং শিক্ষার্থী স্কুলে অভিযোগ দিতে আগ্রহী নয়। অভিযোগ যদি ফাঁস হয়ে যায় এই ভয় থেকেই তাদের এই অনীহা।

