
ফিলিস্তিনের গাজায় প্রবেশের জন্য অটোয়ার ত্রাণবাহী ট্রাক প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনান্দ। এগুলো গাজায় প্রবেশের অনুমতির জন্য ইসরায়েলের ওপরই ভরসা করছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোববার বিকালে দেওয়া এক পোস্টে আনান্দ লিখেছেন, ইসরায়েল গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আগ পর্যন্ত জর্ডান কানাডাকে ত্রাণ রাখার অনুমতি দিয়েছে। ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে জর্ডানের।
ত্রাণবোঝাই ট্রাকের গাজায় প্রবেশের অনুমতির নিশ্চয়তা পেতে শুক্রবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডেন সারের সঙ্গে কথা বলেছেন আনান্দ। এরপর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কিছু মানবিক করিডোর স্থাপনের অনুমতি দেবে, যাতে করে জাতিসংঘের গ্রুপগুলো ত্রাণ সরবরাহ করতে পারে। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু দেশ আকাশ থেকে খাদ্য সহায়তা ফেলতে পারে।
ইসরায়েল গাজার ২০ লাখ মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা নিয়ন্ত্রিত করে রেখেছে। তাদের দাবি, হামাস তাদের শাসন পোক্ত করতে এগুলো চুরি করছে। যদিও এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখায়নি তারা। ফিলিস্তিনী ভূখ-ের অধিকাংশ মানুষ এখন ত্রাণের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে।
ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠিত সাইটে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েক শ ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের অধিকাংশ কর্মসূচি আটকে দেওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘ অঞ্চলটিতে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসছে।
জাতিসংঘ খাদ্য কর্মসূচি বলেছে, তাদের কাছে ও পথে যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য আছে, যা দিয়ে গাজাবাসীকে প্রায় তিন মাস খাওয়ানো সম্ভব। গাজার এক তৃতীয়াংশ মানুষ কয়েকদিন পর্যন্ত অনাহারে কাটাচ্ছে এবং অর্ধেক জনগণ দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
জুলাইয়ে গাজায় অপুষ্টিজনিত ৬৩টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে ২৪ জন। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা এই তথ্য দিয়েছে। তারা বলছে, রোববার খাদ্যের যে প্রবাহ ছিল তা চলমান ক্ষুধা নিবারণের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কম।
এদিকে ক্ষুধায় মৃত্যুর দাবি অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। তারা বলছে, জাতিসংঘ খাদ্য সহায়তা বিতরণে ব্যর্থ হয়েছে।

