
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত হেইশিয়ানদের কানাডায় আশ্রয় চেয়ে আবেদন বাড়তে থাকে। এমনটাই বলছিলেন ফ্রানত্স আন্দ্রে।
নভেম্বরে নির্বাচিত হওয়ার আগেই ট্রাম্প নির্বাচিত হলে অনথিভুক্ত এক কোটি ১০ লাখের বেশি অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। অভিবাসনবিরোধী তার এই কথাবার্তা এবং ওহাইয়োর স্প্রিংফিল্ডের কুকুর হেইশিয়ান অভিবাসীরা খেয়ে ফেলছে এমন ভিত্তিহীন দাবি হেইশিয়ানদের এই বার্তাই দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের দিন ফুরিয়ে আসছে।
গত জুনে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৫ লাখের বেশি হেইশিয়ানকে তাদের অস্থায়ী লিগ্যাল স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ নিলে এই ভয় নিশ্চিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহে মন্ট্রিয়লে আশ্রয় পেতে মরিয়া হেইশিয়ানদের সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে।
কমিটি ডি’অ্যাকশন ডেস পারসোসে স্যান্স স্ট্যাটাটের সহ-সমন্বয়ক আন্দ্রে বলেন, ফেরত পাঠানোর ভয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হেইশিয়ানদের কাছ থেকে প্রতিদিনই আমার কাছে ফোন আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন চার্চে কয়েক সপ্তাহ ধরে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। কারণ, আইসিই (ইউ.এস. ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এজেন্টস) এসে তাদের গ্রেপ্তার করবেÑসারাক্ষণ এই ভয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের।
২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর অস্থায়ী আইনি স্ট্যাটাসের আওতায় হাইতির বহু নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় অস্থায়ী এই আইনি স্ট্যাটাসের মেয়াদ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। হাইতিতে সংঘবদ্ধ সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিশীলতা এবং আরও কিছু কারণে এই মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিল বাইডেন প্রশাসন। জুনে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যন্ড সিকিউরিটি মেয়াদোত্তীর্নের তারিখ ২ সেপ্টেম্ব পর্যন্ত এগিয়ে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু ২ জুলাই নিউ ইয়র্কের একজন ফেডারেল বিচারক তা থামিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রায় ৮০ শতাংশ আশ্রয়প্রার্থী তাদের মামলা কানাডার অভিবাসন বিচারকের কাছে আনার পর তাদের শরনার্থীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

