
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশল কানাডার একজন প্রতিনিধি বলেছেন, অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধে কানাডার পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। যে ভিসায় তারা কানাডায় আসেন তার ফলে তারা একজন নিয়োগদাতার কাছে বাঁধা থাকেন।
গ্রুপটির ইংরেজি শাখার মহাসচিব কেটি নিভিয়াবান্দি ব্রিটিশ কলাম্বিয়া হিউম্যান রাইটস কমিশনার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বৃহ্সপতিবার বলেন, একজন নিয়োগদাতার দয়ার ওপর নির্ভরশীল থাকার কারণে অভিবাসী কর্মীদের ঠাসাঠাসি করা বসবাস, অস্বাস্থ্যকর আবাসন, অনিরপাদ পরিবেশে কাজ এবং মানসিক নির্যাতনের মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটা ব্যতিক্রম নয়। এটা এবটি পদ্ধতিগত সমস্যা, যা ভিসা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশাল গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ব্যবস্থাটির অপব্যবহারের বিষয়ে কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষগুলো অবগত আছে। কিন্তু পদ্ধতিগত নীতি পরিবর্তন বা বদ্ধ ওয়ার্ক পারমিট পদ্ধতি বাতিল করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, অভিবাসী কর্মীদের শ্রম নিপীড়ন ও বৈষম্যের মূল কারণ ভিসার মধ্যে প্রোথিত রয়েছে এবং কানাডিয়ান সরকারের প্রতি উন্মুক্ত ওয়ার্ক পারমিট পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে তারা। যাতে করে অভিবাসীরা নিয়োগদাতা বা চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন।
নিয়াবান্দি বলেন, অভিবাসীদের চাকরি পরিবর্তনের সুযোগদান নিয়োগদাতার যে মৌলিক মানবাধিকার মেনে চলছেন সেটা নিশ্চিত করবে।
১৯৭০ এর দশক থেকে কানাডায় অস্থায়ী বিদেশি কর্মী কর্মসূচির বেশ কিছু সংস্কার চালু ছিল। এই কর্মসূচি নিয়োগদাতাদের অস্থায়ী চাকরির জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দিয়ে থাকে। তবে তার আগে কানাডিয়ান সরকারকে এটা মূল্যায়ন করে দেখতে হবে যে, যোগ্য কানাডিয়ান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া হয় সাধারণত কৃষি ও ফুড সার্ভিস শিল্পে।
গত আগস্টে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই কর্মসূচি দাসত্বের সমসাময়িক ধারার সূতিকাগার হিসেবে কাজ করছে।

