
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধে না জড়িয়ে চীনকে প্রতিরোধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। পাশাপাশি মেক্সিকোকেও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সিএনএন মানডে নাইটে কথা বলার সময় ফোর্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কানাডিয়ান পণ্যে শুল্ক আরোপ যদি কার্যকর করেন তাহলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আমাদের হাতে যেসব টুল আছে বিদ্যুৎ রপ্তানি হ্রাস করা তার মধ্যে অন্যতম। যদিও সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে আমরা সেটা নিতে চাই। তিনি চান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য শক্তিশালী করতে এবং উত্তর আমেরিকার বাজারে চীনের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে। মেক্সিকোর মাধ্যমেই মূলত উত্তর আমেরিকার বাজারে ঢুকছে চীন।
সিএনএনকে ফোর্ড বলেন, আমরা একে অপরের শত্রু নই বলে আমি মনে করি। আমার মতে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো চীন। চীনের সস্তা পণ্য মেক্সিকোর মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রবেশ করছে। ওইসব পণ্যের গায়ে তারা ‘মেড-ইন- মক্সিকো’ স্টিকার লাগিয়ে দিচ্ছে এবং সেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাজারে চালান করছে। আমেরিকান ও কানাডিয়ানদের চাকরিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, আপনি বেইজিংয়ের সঙ্গে আছেন নাকি ওয়াশিংটনের সঙ্গে, মেক্সিকোকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি বলতে কানাডিয়ানরা আপনার সঙ্গে আছে। তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গেই আছে।
চীনের রপ্তানির জন্য পেছনের দরজা হিসেবে মেক্সিকো কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ফোর্ড। বিশেষ করে গাড়ি এবং অটো পার্টস রপ্তানির ক্ষেত্রে। নাফটার স্থলাভিষিক্ত কানাডা-ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো এগ্রিমেন্টের (সিইউএসএমএ) রুলস অব অরিজিন ফাঁকি দিয়ে কাজটি করছে চীন।
ট্রাম্প নিজেও বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বলেছেন, ২০২৬ সালে যখন মুক্তবাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনার জন্য হালনাগাদ করা হবে তখন তিনি বিষয়টি সমাধান করবেন।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত যে সীমান্তের দুই পাশের ভোক্তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে সেই বার্তা তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন ফোর্ড। সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা তার সর্বশেষ নজির। সরাসরি আমেরিকান জনগণের প্রতি আহ্বান জানাতে এর আগে তিনি ফক্স নিউজ ও সিএনবিসিতে হাজির হয়েছিলেন।

