
এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে ফেডারেল লিবারেলরা। জাস্টিন ট্রুডোর স্থলে অন্য কাউকে খুঁজছে তারা। জাতীয় ভোটাভুটির মাধ্যমে তার উত্তরসূরী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ামাত্র পদত্যাগ করবেন বলে ৬ জানুয়ারি ঘোষণা দিয়েছেনট্রুডো।
৯ মার্চ ভোটের পর দলটি নতুন নেতার নাম ঘোষণা করবে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রার্থীদের অবশ্যই ২৩ জানুয়ারির মধ্যে ঘোষণা দিয়ে সাড়ে তিন লাখ ডলার জমা করতে হবে।
প্রতিযোগিতায় যারা থাকছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন চন্দ্র আর্য। বর্তমান লিবারেল ককাস সদস্যদের মধ্যে তিনিই প্রথম প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। ট্রুডোর পদত্যাগের ঘোষণার চারদিন পরই তিনি তার আগ্রহের কথা জানান। ২০১৫ সালে প্রথম এমপি নির্বাচিত আর্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী হতে ফ্রেঞ্চ জানান প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন না। সেই সঙ্গে ট্রুডোর কার্বন প্রাইসিং সিস্টেম থেকে বেরিয়ে আসা ও রাজতন্ত্র বিলোপের কথা বলেছেন।
তবে সবার আগে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায নিজের নাম ঘোষণা করেন মন্ট্রিয়লের সাবেক এমপি ও ব্যবসায়ী ফ্রাঙ্ক বেইলিস। বেইলিস ২০১৫ সালের নির্বাচনে লিবারেল পার্টির ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিলেও ২০১৯ সালে আর দাঁড়াননি। ২০২২ সালে তিনি তার কোম্পানি বেইলিস মেডিকেল কোম্পানি ইনকর্পোরেশন বোস্টন সায়েন্টিফিক কর্পোরেশনের কাছে ১৭৫ কোটি ডলারে বিক্রি করে দেন।
ঘোষণা না দিলেও যারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের কথা ভাবছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সাবেক লিবারেল প্রিমিয়ার ক্রিস্টি ক্লার্ক। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্রিমিয়ারের দায়িত্ব পালন করেন এবং এখন ট্রুডোর সরকারের কেউ না হয়েও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর পর্যায়ে রয়েছেন।
২০১৩ সাল থেকে লিবারেল এমপি ও সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন। গত ডিসেম্বরে টানাপোড়েনের আগ পর্যন্ত ট্রুডোর সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
ব্যাংক অব কানাডা ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক গভর্নর মার্ক কারনি আগামী সপ্তাহেই প্রতিযোগিতায় তার নাম ঘোষণা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লিবারেল সংগঠকরা গত এক দশক ধরে এই তারকা টেকনোক্র্যাটকে দলে টানার চেষ্টা করেছেন। গত গ্রীষ্মে দলকে অর্থনৈতিক বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব নেন তিনি।
সংসদে পিয়েরে পয়লিয়েভরকে পাল্টা দিয়ে চলার জন্য খ্যাতি পেয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী মিলেনিয়াল কারিনা গোল্ড। তিনি প্রথম এমপি নির্বাচিত হন ২০১৫ সালে এবং পরবর্তীতে মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ওই অবস্থায় তিনি সন্তানের মা হন এবং মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যান। ন্যাশনাল চাইল্ডকেয়ার কর্মসূচিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়ার জন্য দলের মধ্যে তার পরিচিতি রয়েছে।
শিল্পমন্ত্রী ফ্রাসোয়াঁ-ফিলিপ ক্যাম্পেইন লিবারেল নেতা হওয়ার ব্যাপারে তার আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তবে প্রতিযোগিতায় নামবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করেননি। অফুরন্ত দমের কারণে পরিচিত ২০১৫ সাল থেকে সেইন্ট-মরিস-চ্যাম্পালিন থেকে এমপি নির্বাচিত শ্যাম্পেইন।
লিবারেল পার্টির নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামার আগ্রহ দেখিয়েছেন জ¦ালানিমন্ত্রী ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এমপি জোনাথন উইলকিনসন এবং শ্রমমন্ত্রী স্টিভেন ম্যাককিননও।
আর যারা প্রতিযোগিতায় না নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা হলেন পরিবহনমন্ত্রী ও ওকভিলের এমপি অনীতা আনান্দ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি এবং অর্থমন্ত্রী ডমিনিক লাব্লাঁ।

