
পরিচ্ছন্ন একটি কক্ষের উজ্জ্বল রঙের শয্যার এক কোণায় বসে ছিলেন জশুয়া অরসন। আর ভাবছিলেন, তার মাদকাসক্তি থেকে স্বাস্থ্যকর্মী হয়ে ওঠার কথা।
ডাউনটাউন টরন্টোতে ৩৬ শয্যার যে ডিটক্স স্পেস এই কক্ষটি তার অংশ। স্পেসটিতে মূলত গৃহহীন রোগীদের সহায়তা করে থাকে। যদিও পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন এমন যে কারো জন্যই এটি উন্মুক্ত। এখানে ব্যক্তিগত ক্ষ যেমেন রয়েছে, একইভাবে আছে ভাগাভাগি করে থাকার কক্ষও। আরও আছে ধোলাই কক্ষ এবং কার্ড খেলা ও টেলিভিশন দেখার জন্য বেশ কয়েকটি লাউঞ্জ।
স্পেসটি গ্রুপ এবং আলাদাভাবে থেরাপি দিয়ে থাকে। সেখানে ২৪ ঘণ্টার জন্য উপস্থিত থাকেন মাদকাসক্ত কাউন্সেলর ও নার্স। ইউনিটি হেলথ টরন্টো পরিচালিত উইথড্রয়াল ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেসের সব সেবাই বিনামূল্যের এবং অর্থায়ন করে তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। টরন্টোতে সরকারি অর্থায়নে যে চারটি ডিটক্স স্পেস রয়েছে এটি তার একটি। এগুলো লোকজনকে মাদক ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে।
অরসন আগে যেখানে পরিচ্ছন্ন হয়েছিলেন এটা তার চেয়ে একেবারেই আলাদা। সেটা ছিল হোমলেস শেল্টারের অভ্যন্তরে ডরমিটরি ধরনের একটি কক্ষ, যেখানে কোনো ব্যক্তিগত কক্ষ ছিল না। এটা ছিল একটি পুরোনো বাড়িতে, যেখানে হিটিং সিস্টেমও ছিল অনেক পুরোনো। এ ছাড়া বায়ু চলাচলের যে ব্যবস্থা তাও নাজুক।
অরসন এখন এখানে সহায়তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলছিলেন, আপনি যখন এখানকার দরজায় পা রাখবেন তখনই সম্মান এবং আশার একটি বোধ আপনার মধ্যে তৈরি হবে। অনেক কিছু হারানোর পর এটা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কোথায় আছেন তার বদলে আপনি কী হতে পারেন সেই পরামর্শ আপনাকে দেবে স্পেসটি। এটা আশাবাদের স্পেস।
কয়েক সপ্তাহ আগে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হয়েছে ইউথড্রয়াল সেন্টার। কিন্তু এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে গ্রীষ্মেই। এর ৩৬টি শয্যার সবগুলোই খুব দ্রুতই পূর্ণ হয়ে গেছে এবং এখন আর কোনো শয্যা খালি নেই। এমনটাই জানান সেন্ট মাইকেল’স হসপিটালের চিকিৎসক এবং ইউনিটির ক্লিনিক্যাল প্রোগ্রামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. ইরফান ঢাল্লা।

