
আসন্ন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে কনজার্ভেটিভ নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভরের সমালোচনা কোনো কাজে আসবে না বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেন, কোনোভাবে দেশ যদি হুমকির মুখে পড়ে তাহলে কানাডিয়ানরা তাদের দেশকে রক্ষায় একত্র হয়। এটাই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রেওয়াজ। কিন্তু পয়লিয়েভর যে সেটা করতে সক্ষম নয়, ক্রমেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্বে ট্রুডো তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সম্পর্কে এই মন্তব্য করেন। ফ্লোরিডার মার-এ-লারগা ক্লাবে শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে আকস্মিক বৈঠকের ব্যাপারে অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গে নজিরবিহীন বৈঠক করেন ট্রুডো। এর পরদিনই তিনি এই মন্তব্য করলেন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।
বৈঠকের পর পয়লিয়েভর বলেন, ট্রুডো বাজেট ও সীমান্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি হারিয়ে ফেলেছেন এবং কানাডাকে দুর্বল অবস্থানে নিয়ে গেছেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে ট্রুডো আবারও তাকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের শুল্ক সংক্রান্ত হুমকির মধ্যে রাজনীতির খেলা খেলতে পয়লিয়েভর তাকে সাহায্য করতে পারবেন না।
জবাবে পয়লিয়েভর বলেন, এই বসন্তে কার্বন কর বৃদ্ধির পরিকল্পনার মাধ্যমে ট্রুডো কানাডিয়ান চাকরি পশ্চিমে ঠেলে দিচ্ছেন। ওভাল অফিসের প্রেসিডেন্টকে একবার কল্পনা করে দেখুন। তিনি ব্যবসায়ীদের বলছেন যে, সীমান্তের উত্তরে আপনাদের কার্বন কর চারগুণ। তাহলে কেন সীমান্তের দক্ষিণে আসবেন না, যেখানে কোনো কার্বন কর নেই এবং অন্যান্য করও কমছে।
বুধবার পার্টি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রুডোর একজন মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য নেতাদের প্রকাশ্যে কানাডার বিরুদ্ধে দর-কষাকষিনা করতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, সীমান্তের মতো বিষয়গুলো ভঙ্গুর। একইসঙ্গে তিনি এই বার্তাও জোরোশোরে বলার আহ্বানও জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি আমেরিকান অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী ও মাদক আসা বন্ধ না হলে কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানিকৃত সব পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প। জননিরাপত্তামন্ত্রী ডমিনিক লাব্লাঁ মঙ্গলবার বলেন, ট্রাম্পের শপথের সময় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করবে কানাডা।

