Latest Posts

নুনাভিকের ইনুইটদের কাছে অবশেষে ক্ষমা চাইল কানাডা সরকার

- Advertisement -
শনিবার কাঙ্গিকসুজুয়ায় এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে আদিবাসী সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী গ্যারি আনান্দাসাঙ্গারা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন

উত্তর কুইবেকের নুনাভিক অঞ্চলের কাঙ্গিকসুজুয়া অর্ধশতাব্দী অপেক্ষার পর অবশেষে কানাডা সরকার ইনুইট জনগোষ্ঠীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে ১৯৫০ থেকে ১৯৬০-এর দশকে সংঘটিত নিষ্ঠুর স্লেজ ডগ হত্যার জন্য। এই ঘটনাটি কেবল প্রাণী হত্যা ছিল না; এটি ইনুইটদের জীবনধারা, সামাজিক কাঠামো এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর গভীর ক্ষত স্থাপন করেছিল, যার প্রভাব আজও তাদের সমাজে অনুভূত হচ্ছে।

শনিবার কাঙ্গিকসুজুয়ায় এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে আদিবাসী সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী গ্যারি আনান্দাসাঙ্গারা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, এই ঘটনার জন্য সরকার দায় এড়িয়ে যেতে পারবে না। একই সঙ্গে মন্ত্রী ঘোষণা করেন ইনুইট সম্প্রদায়ের জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ তহবিল, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পুনর্গঠন, ঐতিহ্যবাহী পরিবহন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।

- Advertisement -

মন্ত্রী আনান্দাসাঙ্গারা বলেন, “১৯৫০-এর দশক থেকে ১৯৬০-এর দশকের শেষ পর্যন্ত নুনাভিকজুড়ে সরকার ও পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুমোদনে হাজারো স্লেজ ডগ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ইনুইট সম্প্রদায়ের জীবনধারা, চলাচল, খাদ্যসংগ্রহ এবং ঐতিহ্য এই কুকুরগুলোর ওপর নির্ভর করত। তাদের থেকে এই প্রাণীগুলো কেড়ে নেওয়া মানে ছিল তাদের জীবন থেকে স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া।”

ইনুইটদের ইতিহাস অনুযায়ী, বরফাচ্ছন্ন অঞ্চলে চলাচল, শিকার, মাছ ধরা সবকিছুতেই স্লেজ ডগ ছিল অপরিহার্য। এক ইনুইট সংগঠনের প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা যখন জমিতে যেতাম, শিকারে বের হতাম, মাছ ধরতে বা তুষারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ যাত্রায় বের হতাম সবক্ষেত্রেই আমাদের কুকুররা ছিল আমাদের সঙ্গী। তাদের ছাড়া জীবন ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু সেই কুকুরগুলোকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।”

ইতিহাসবিদদের অনুসারে, কুইবেকের পুলিশ কর্তৃপক্ষ ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে প্রায় এক হাজারেরও বেশি স্লেজ ডগ হত্যা করে, যা ইনুইট সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো ধ্বংস করে দেয়। অনেক পরিবার তাদের জীবিকার উৎস হারিয়ে অভিবাসনে বাধ্য হয়, এবং নুনাভিকের বহু প্রথাগত গ্রাম পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

এক সরকারি তদন্তে ২০০৬ সালে কুইবেক সুপিরিয়র কোর্টের বিচারপতি জাঁ-জ্যাক ক্রোটো প্রকাশ করেন যে, শুধু ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে কাঙ্গিকসুজুয়ায় তিন দিনের মধ্যে ২০০-রও বেশি কুকুর নিধন করা হয়েছিল, যা ছিল পুরো গ্রামটির মোট কুকুরের অর্ধেকেরও বেশি।

ইনুইট প্রবীণরা অনুষ্ঠানে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই ক্ষমা অনেক দেরিতে এল, কিন্তু অন্তত ইতিহাস এখন সত্যকে স্বীকার করছে।”

উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে ২০১৯ সালে আরসিএমপি কর্তৃপক্ষও ক্ষমা চেয়েছিল, কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি এবং প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করা হলো।

বাংলামেইলের অনুসন্ধানে জানা গেছে, নতুন ঘোষিত ক্ষতিপূরণ তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে স্থানীয় সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ, ঐতিহ্যবাহী পরিবহন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ইনুইট ইতিহাস সংরক্ষণ প্রকল্পে। সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ ইনুইট জনগোষ্ঠীর সামাজিক পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।

নুনাভিকের প্রবীণ নেতা আইক্লুক আনার্ক বলেন, “এটি শুধু কুকুর হত্যার গল্প নয়, এটি আমাদের ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা ছিল। আজকের ক্ষমা সেই ভুলের একটি প্রতীকী সংশোধন। আমরা চাই এই ইতিহাস যেন আর কখনো পুনরাবৃত্তি না হয়।”

কানাডার উত্তরাঞ্চলের এই ক্ষমা প্রার্থনা এখন জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল অতীতের ভুল স্বীকার নয়, বরং আদিবাসী ন্যায়ের পথে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.