
ম্যানিটোবারের গ্রামীণ ও ফার্স্ট নেশন কমিউনিটিগুলোয় প্রায় ৩,৬১১টি পরিবার শিগগিরই দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা পাবে। উইনিপেগ সেন্টার নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য এবং নর্দার্ন অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী ড্যান ভ্যান্ডাল শুক্রবার এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “কানাডার প্রতিটি নাগরিকের দ্রুতগতির ইন্টারনেট পাওয়ার অধিকার রয়েছে। শহরে থাকুন বা উত্তর ম্যানিটোবারের দূরবর্তী অঞ্চলে, এই সংযোগ এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি অপরিহার্য একটি মৌলিক সেবা।”
ফেডারেল সরকারের এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ১৪টি গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত কমিউনিটিতে চারটি পৃথক প্রকল্পের জন্য মোট ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই বিনিয়োগের ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে, স্বাস্থ্যসেবায়, কৃষি ক্ষেত্রে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খোলা হবে।
এই প্রকল্পের অর্থায়ন আসে সরকারের ৩২৫ কোটি ডলারের ইউনিভার্সেল ব্রডব্যান্ড ফান্ড (U.B.F.) থেকে। ইউবিএফ-এর লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে কানাডার প্রতিটি পরিবারে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া। ফেডারেল সরকার আশা করছে, ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ৯৮ শতাংশ বাড়ি এই সেবার আওতায় আসবে।
বর্তমান সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কানাডার মোট ৯৪.৮ শতাংশ পরিবার দ্রুতগতির ইন্টারনেটের আওতায় থাকলেও ম্যানিটোবারের হার তুলনামূলকভাবে কম মাত্র ৮৫.৪ শতাংশ। এই বৈষম্য দূর করার জন্য নতুন প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী গুডি হাচিংস এই উদ্যোগকে “ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “আজকের যুগে সংযোগই উন্নয়নের চাবিকাঠি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা বা ব্যবসা সব ক্ষেত্রেই নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়। এই বিনিয়োগ কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, এটি মানবসম্পদ বিকাশ ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের প্রতীকও বটে।”
ফেডারেল কর্মকর্তারা বাংলামেইলকে জানিয়েছেন, সরকার শুধুমাত্র অবকাঠামো স্থাপনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রকল্পগুলো পরিচালনায় স্থানীয় কমিউনিটির সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আদিবাসী নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোরও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
ম্যানিটোবারের এক স্থানীয় নেতা বাংলামেইলকে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ছাত্রছাত্রী ও উদ্যোক্তারা ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে পিছিয়ে ছিলেন। অবশেষে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা আমাদের জন্য নতুন আশার আলো।”
ড্যান ভ্যান্ডাল আরও বলেন, এই প্রকল্প “কানেক্টিং এভরিহোম” নামক বৃহত্তর সরকারের উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসা। তিনি যোগ করেন, “আজকের বিশ্বে সংযোগ মানেই সুযোগ, আর ম্যানিটোবারের মানুষ সেই সুযোগ থেকে বাদ পড়বে না।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কেবল ম্যানিটোবার নয়, কানাডার উত্তরাঞ্চল জুড়ে গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে। দ্রুতগতির ইন্টারনেটের সুবিধা শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতের ভিত্তিকেও দৃঢ়তার সঙ্গে অবস্থান করবে।

