
অন্টারিওর খুচরা বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেই কানাডার শীর্ষস্থানীয় গ্রোসারি চেইন লবল কোম্পানিজ লিমিটেড আরও বেশি ক্রেতা আকৃষ্ট করতে ব্যাপক কৌশলগত পরিবর্তন ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার অভ্যাসে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কোম্পানিটি এখন স্টোর সম্প্রসারণ, ডিসকাউন্ট মডেল ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছে।
লবল কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পার ব্যাংক স্বীকার করেছেন, তাঁর নেতৃত্বের প্রথম বছরেই প্রতিষ্ঠানটি ব্যস্ততম সময় পার করেছে। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, “গত বছর আমরা অনেক কিছু করেছি, এবং এখন সেই কাজগুলো আরও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। সামনে আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে, এবং আমরা সেগুলো আরও শক্তভাবে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি।”
লবল কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারে। শেয়ারপ্রতি আয় ২.৫৩ ডলার, যা আগের বছরের ১.৯৫ ডলারের তুলনায় প্রায় ৩০% বেশি। মোট রাজস্বও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে, যা এক বছর আগের ১৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলার থেকে প্রায় ৩ কোটি ডলারের বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
ব্যাংক জানান, ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় কোম্পানি এখন ডিসকাউন্ট মডেলের দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে তাদের দুটি ব্র্যান্ড ‘নো ফ্রিলস’ এবং ‘ম্যাক্সি’ এর পারফরম্যান্স পূর্ণাঙ্গ সার্ভিস স্টোরগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ক্রেতাদের জন্য আরও সাশ্রয়ী বিকল্প তৈরি করা, যাতে তারা খাদ্যদ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কম দামে পেতে পারেন।”
লবল চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ২৫টি নতুন ‘নো ফ্রিলস’ ও ‘ম্যাক্সি’ স্টোর চালু করেছে। এর মধ্যে ছয়টি ছোট আকারের ‘নো ফ্রিলস’ স্টোর রয়েছে। প্রধান অর্থ কর্মকর্তা রিচার্ড ড্রাফেন জানান, “আমরা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছি, কিন্তু গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এটি প্রমাণ করে, মানুষ ক্রমেই সাশ্রয়ী কেনাকাটার দিকে ঝুঁকছে।”
কোম্পানি এখন ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে প্রযুক্তিনির্ভর কেনাকাটা, লয়্যালটি প্রোগ্রাম, অনলাইন অর্ডার এবং দ্রুত ডেলিভারি সেবার পরিসরও সম্প্রসারণ করছে। মহামারির পর থেকে ক্রেতারা আবার স্টোরে ফিরলেও তারা আগের তুলনায় দামের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সচেতন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কানাডার মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্য সাধারণ জনগণকে “ডিসকাউন্ট রিটেইলিং” এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। লবল সেই পরিবর্তনকে আগে থেকেই চিনে নিয়েছে, যা কোম্পানির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
২০২৫ সালে লবল দেশজুড়ে আরও নতুন স্টোর খোলার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ফার্মেসি, স্বাস্থ্যপণ্য এবং অভিবাসী কমিউনিটির চাহিদানির্ভর পণ্যের পরিসরও বাড়ানো হবে। শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, “আমাদের লক্ষ্য শুধু বিক্রি বাড়ানো নয়, বরং ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে লবলকে আরও অপরিহার্য করে তোলা।”
সংক্ষেপে, লবল কেবল একটি গ্রোসারি চেইন নয়, বরং কানাডার দ্রুত পরিবর্তনশীল খুচরা বাজারে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নতুনভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা এই কৌশলই লবলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে ধরা হচ্ছে।

