Latest Posts

অন্টারিও লিবারেলদের অঙ্গীকার: আয়কর কমবে, হিটিং ও বিদ্যুতের বিল থেকে বিক্রয় করও উঠবে

- Advertisement -
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ক্রম্বির এই পদক্ষেপ এনডিপি নেতা মারিট স্টাইলিসের পথ অনুসরণ করছে

অন্টারিও রাজনীতি এখন নির্বাচনের আগাম উত্তাপে টগবগ করছে। প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড তাঁর প্রোগ্রেসিভ কনজারভেটিভ (PC) দলের পক্ষে ভোট চাইছেন, আর সেই সময়েই বিরোধী শিবিরে নতুন প্রাণ এনেছেন লিবারেল নেতা বনি ক্রম্বি। ক্রম্বি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, সরকার গঠনের পর মধ্যবিত্তের ওপর থেকে আয়কর হ্রাস করবেন এবং ঘর গরম রাখার খরচ ও বিদ্যুতের বিল থেকে বিক্রয় কর সম্পূর্ণভাবে তুলে দেবেন।

এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে সরাসরি ফোর্ডের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রিমিয়ার ফোর্ডও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ প্রসঙ্গে ক্রম্বি বলেন, “বর্তমান সময়ে মানুষের হাতে যে একমাত্র স্বস্তি আছে, তা হল তাদের ব্যয় কমানো। কর হ্রাসের মাধ্যমে আমরা পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব স্বস্তি আনতে চাই।”

- Advertisement -

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ক্রম্বির এই পদক্ষেপ এনডিপি নেতা মারিট স্টাইলিসের পথ অনুসরণ করছে। স্টাইলিস সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ, সর্বজনীন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি সেবা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম পুনরুদ্ধার। ক্রম্বির কর হ্রাসের প্রস্তাবও মূলত মধ্যবিত্তের দৈনন্দিন ব্যয় হ্রাসে নিবদ্ধ।

আইনে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অন্টারিও নির্বাচন ২০২৬ সালের জুনে হওয়ার কথা। তবে প্রিমিয়ার ফোর্ড ২০২৫ সালের আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। বিরোধী দলগুলোর ধারণা, ভোট হতে পারে আগামী বসন্তেই। এই প্রেক্ষাপটে করনীতি এখন নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ক্রম্বির ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ফোর্ড বলেন, “অন্টারিওবাসীর সামনে পছন্দ এখন একেবারে স্পষ্ট কর নিয়ে সিদ্ধান্ত। বনি ক্রম্বির অধীনে আপনাদের কষ্ট পেতে হবে, কিন্তু প্রোগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টিকে ভোট দিলে আমরা আপনার পকেটে অর্থ ফেরত দেব।” এই মন্তব্য তিনি করেন ব্যারিতে আন্তর্জাতিক প্রকৌশলী ইউনিয়নের নতুন কার্যালয় ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে। সেখানে ফোর্ড দক্ষতা উন্নয়ন তহবিলের আওতায় অতিরিক্ত ৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বরাদ্দ ঘোষণা করেন, যাতে প্রদেশজুড়ে আরও প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ফোর্ডের আগের মেয়াদ ও ২০২২ সালের নির্বাচনে ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সমর্থন আদায়ে যে উদ্যোগ দেখা গিয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় এবারও প্রাদেশিক সরকার একই শ্রেণির সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা ভোটারদের কাছে ‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তা’ ও ‘কর্মসংস্থান উন্নয়নের সুযোগ’ প্রদর্শন করতে চাইছে।

এদিকে লিবারেলদের আর্থিক প্রস্তাবের কেন্দ্রে রয়েছে মধ্যবিত্তের বাস্তব স্বস্তি। ক্রম্বি বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচনে ফোর্ড মধ্যবিত্তের কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা ছয় বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা সেই শূন্য পূরণ করব। হোম হিটিং ও হাইড্রো বিলের ওপর থেকে বিক্রয় করও আমরা সম্পূর্ণভাবে তুলে দেব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্রম্বির এই পদক্ষেপ ভোটারদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যয় সাময়িকভাবে কমলেও আয়করে কাঠামোগত সমন্বয় আনলে স্থায়ী স্বস্তি পাওয়া সম্ভব। তবে প্রশ্ন উঠছে এই করছাড়ে রাজস্ব ঘাটতি কতটা হবে, এবং সরকার সেটি পূরণ করবে কীভাবে।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, আর অন্টারিও রাজনীতিতে মূল বিতর্ক এখন ঘুরছে একটাই প্রশ্নের চারপাশে কে দিতে পারবেন প্রকৃত আর্থিক স্বস্তি, এবং কার হাতে নাগরিকের দৈনন্দিন ব্যয় কমানোর বাস্তব চাবিকাঠি।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.