Latest Posts

ছোট ব্যবসার কার্বন ট্যাক্স রিবেট করমুক্ত ঘোষণা করল ফেডারেল সরকার

- Advertisement -
অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছেন ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য ঘোষিত ২৫০ কোটি ডলারের কার্বন ট্যাক্স রিবেটের ওপর কোনো কর আরোপ করা হবে না

দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কানাডার অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছেন ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য ঘোষিত ২৫০ কোটি ডলারের কার্বন ট্যাক্স রিবেটের ওপর কোনো কর আরোপ করা হবে না। একদিন আগেই এই রিবেটকে করযোগ্য বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফ্রিল্যান্ডের দ্রুত টুইট প্রতিক্রিয়া তাই এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

গত কয়েক মাস ধরে কানাডার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর (এসএমই) মধ্যে কার্বন ট্যাক্স ফেরত সংক্রান্ত রিবেট নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ উৎসাহিত করতে লিবারেল সরকার এই প্রোগ্রামটি চালু করে। এর আওতায় প্রায় ছয় লাখ ছোট ব্যবসা মোট ২৫০ কোটি ডলার ফেরত পাবে। তবে সম্প্রতি কানাডা রেভিনিউ এজেন্সি (সিআরএ) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যোগাযোগ বিভ্রাটের ফলে প্রশ্ন ওঠে এই রিবেট কি করযোগ্য?

- Advertisement -

একটি জাতীয় দৈনিক প্রথমে রিপোর্ট করে যে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের শ্রেণিকরণ অনুযায়ী এই রিবেট “সরকারি সহায়তা” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ফলে তা করযোগ্য হতে পারে। সংবাদটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অর্থমন্ত্রী ফ্রিল্যান্ড টুইট করে লেখেন, “দ্য কানাডা কার্বন রিবেট ছোট ব্যবসাগুলোকে সরাসরি ২৫০ কোটি ডলার দিচ্ছে। এই রিবেট সম্পূর্ণ করমুক্ত।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র বাংলামেইলকে জানায়, এটি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার প্রচেষ্টা। সূত্রটির ভাষায়, “রিবেট কখনোই করযোগ্য ছিল না। কিছু প্রশাসনিক ভুল ব্যাখ্যা থেকেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।”

দ্য কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিজনেস (সিএফআইবি) জানিয়েছে, তারা প্রথমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে রিবেটকে করযোগ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার বার্তা পায়। এই অবস্থানের বিরুদ্ধে সংগঠনটি তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সিএফআইবির প্রেসিডেন্ট ড্যান কেলি বলেন, “এই রিবেটের মূল উদ্দেশ্য ছিল ছোট ব্যবসাগুলোকে আর্থিক স্বস্তি দেওয়া। এর ওপর কর বসানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক হতো। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণায় এখন বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়েছে।”

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি কেবল করনীতির প্রশ্ন নয় বরং রাজনৈতিকভাবেও তা গুরুত্বপূর্ণ। কার্বন ট্যাক্স নিয়ে সরকারের ওপর ইতিমধ্যেই ব্যাপক চাপ রয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি নিয়মিত অভিযোগ করছে যে, এই নীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলছে। এমন প্রেক্ষাপটে রিবেটের ওপর কর আরোপের খবর ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বাংলামেইলকে বলেন, “ফ্রিল্যান্ডের দ্রুত প্রতিক্রিয়া ছিল মূলত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল। সরকার জানত, কর আরোপের খবর ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।”

চলতি বছরের বাজেটে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বাধীন লিবারেল সরকার ঘোষণা করেছিল, কার্বন দূষণ থেকে সংগ্রহ করা অর্থের একটি বড় অংশ নাগরিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ হলো এই ছোট ব্যবসার কার্বন রিবেট প্রোগ্রাম।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা চাই ছোট ব্যবসাগুলো যেন টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যায়। যারা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ করবে, তারা অতিরিক্ত সুবিধাও পাবে।”

তবে সমালোচকরা বলছেন, কার্বন ট্যাক্স নীতির বাস্তব প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়। অনেক ছোট ব্যবসা মনে করে, করের বোঝা কমার বদলে প্রশাসনিক জটিলতা বেড়েছে। তাদের দাবি, রিবেট দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বিতরণ করতে হবে, যাতে প্রকৃত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এর সুবিধা পান।

অবশেষে অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের ঘোষণায় অনিশ্চয়তার ইতি ঘটেছে—ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য ২৫০ কোটি ডলারের কার্বন ট্যাক্স রিবেটের ওপর কোনো কর আরোপ করা হবে না। এটি সম্পূর্ণ করমুক্ত সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে, যা একদিকে ছোট ও মাঝারি ব্যবসার আর্থিক স্বস্তি আনবে, অন্যদিকে কানাডাকে আরও সবুজ ও টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.