
আসন্ন সপ্তাহে কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে উত্তেজনা তীব্র আকার নিতে পারে। কনজারভেটিভ পার্টি লিবারেল সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে। বিশেষত এই প্রস্তাবের চতুর কৌশল হিসেবে তারা ব্যবহার করতে চলেছে এনডিপি নেতা জাগমিত সিংয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য। লক্ষ্য স্পষ্ট সংখ্যালঘু সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এনডিপির সমর্থন আদায় করা।
প্রসঙ্গত, জাগমিত সিং সম্প্রতি একটি প্রস্তাবিত রেল শ্রমিক বিরোধের সমাধানে লিবারেল সরকারের পদক্ষেপকে সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, “দেশের বৃহৎ দুই রেল ইয়ার্ড ঘিরে শ্রমিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাইন্ডিং আরবিট্রেশন আদেশ দিয়ে লিবারেলরা কর্পোরেট লোভের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছে।” কনজারভেটিভরা এই বক্তব্যকে সরাসরি অনাস্থা প্রস্তাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করছে এবং সংসদ সদস্যদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, তারা যদি এনডিপি নেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হন, তবে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও তার সরকারের ওপর আস্থা হারানো হয়েছে এমন স্পষ্ট ঘোষণা করুন।
সরকারি দলের নেতা কারিনা গোল্ড জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে বিরোধীদলীয় দিন (Opposition Day) নির্ধারণের বিষয়ে সব দলের সম্মতি চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই বিরোধীদলগুলো তাদের প্রস্তাব পেশের পূর্ণ সুযোগ পাক, যাতে সংসদে মতামত প্রকাশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে বজায় থাকে।”
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বরের আগে বিরোধী দলগুলোকে চারটি অতিরিক্ত দিন দেওয়া হবে নিজেদের প্রস্তাব উপস্থাপনের জন্য। কনজারভেটিভরা জানিয়েছে, তারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আস্থা ভোটে যাবে। কনজারভেটিভ কৌশলবিদদের মতে, “এনডিপি নেতা নিজেই বলেছেন লিবারেলরা কর্পোরেট স্বার্থে শ্রমিকদের ত্যাগ করেছে। আমরা শুধু তার কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। যদি তিনি নিজের অবস্থানে অটল থাকেন, তাহলে তাকে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতেই হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কনজারভেটিভদের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র লিবারেল সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে না, বরং এনডিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রেও পরীক্ষা নেবে। ২০২২ সালে লিবারেল সরকারের টিকিয়ে রাখার জন্য এনডিপির সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, এনডিপি স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতে কিছু নীতিগত শর্তে সমর্থন প্রদান করেছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই সম্পর্ক কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
হাউস অব কমন্সে অক্টোবর থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিরোধীদলীয় দিন অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সংসদ বিশেষাধিকার প্রস্তাব ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত বিতর্কে ব্যস্ত থাকায়, কনজারভেটিভদের এই প্রস্তাব ডিসেম্বরের শুরুতে সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন মাত্রা আনতে পারে। সরকারি দলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “আমরা এখনো অন্যান্য দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি। তবে আমরা চাই সংসদীয় আলোচনাগুলো দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক হোক।”
বিশ্লেষকদের মতে, অনাস্থা প্রস্তাব ভোটে যদি হাউস অব কমন্সের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য সমর্থন জানায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন ফেডারেল নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্যদিকে, এনডিপি এখনো প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান জানায়নি।
বাংলামেইলের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, এই পরিস্থিতি এনডিপির জন্য দ্বিমুখী চাপ সৃষ্টি করছে। যদি জাগমিত সিং নিজের বক্তব্য অস্বীকার করেন, তাহলে ভোটারদের কাছে তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আর যদি তিনি কনজারভেটিভদের সঙ্গে ভোট দেন, তাহলে লিবারেল সরকারের পতন প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠবে। শেষ পর্যন্ত, রাজনীতির দৌড় এখন সেই দিকে মুখ করছে জাগমিত সিং কি নিজের বক্তব্যের পাশে দাঁড়াবেন, নাকি রাজনৈতিক বাস্তবতার কাছে নতি স্বীকার করবেন।

