
কেন তিনি ক্যানোলার চাষ করেছেন, সে ব্যাপারে সাস্কেচুয়ানের কৃষক ইয়ান বক্সালের উত্তরটা রুঢ়। কানাডা এবং চীনের মধ্যকার বাণিজ্য বিরোধ নিয়ে ফসলটি এখন বিপাকে পড়েছে। প্রতি বছরই এমনটা হচ্ছে।
প্রদেশের উত্তরপূর্বাংশের টিসডেলের কাছে তার খামার থেকে বক্সাল বলছিলেন, আপনারা জানেন যে, ঐতিহাসিকভাবে ক্যানোলা সাস্কেচুয়ানের কৃষকদের জন্য অর্থকরী ফসল।
এগ্রিকালচারাল প্রোডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব সাস্কেচুয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বক্সাল। তিনি বলেন, এ বছর ফসল ভালো হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহেই ২০২৪ সালের ফসল ঘরে তোলা শুরু করবেন বলে আশা করছেন। কিন্তু এটা অর্থকরী ফসল হলেও তার অনেকটাই নির্ভর করছে এ সপ্তাহে চীন কানাডা থেকে ক্যানোলা আমদানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেবে কিনা তার ওপর।
বক্সাল বলেন, এই অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে এখানে, সাস্কেচুয়ানে।
শিল্প সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর কানাডা ২ কোটি টনের মতো ক্যানোলা উৎপাদন করে। এর সিংহভাগ আমে আলবার্টা, সাস্কেচুয়ান ও ম্যানিটোবার মতো পশ্চিমের প্রদেশগুলো থেকে।
হলুদ ফুলের জন্য সুপরিচিত ক্যানোলার চাহিদা রয়েছে সারাবিশে^ই। কারণ, পশুখাদ্য, ভোজ্যতেল অথবা বায়োফুয়েল হিসেবে এর উপযোগীতা। কানাডায় যেসব শস্য ব্যাপক হারে চাষ হয়ে থাকে ক্যানোলা তার মধ্যে অন্যতম। কানাডিয়ান ফার্মগুলোতে শস্য থেকে আসা রাজস্বের এক-চতুর্থাংশেল জোগানদাতা হচ্ছে ক্যানোলা।
ঐতিহাসিকভাবেই কানাডিয়ান ক্যানোলা বীজের সবচেয়ে বড় ক্রেতা কানাডা। এবং চলতি বছর কানাডার ;দক্যানোলার চালানের প্রায় ৭০ শতাংশ দেশটিতে যাওয়ার কথা। এমনটাই বলছে স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা।
চীনের ক্যানোলাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার কারণ হচ্ছে চীনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি), ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর কানাডার শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, কানাডিয়ান ক্যানোলা আমদানিতে বৈষম্যবিরোধী অনুসন্ধান এবং অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত করতে যাচ্ছে। সুনির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিকের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি তারা বিশ^ বাণিজ্য সংস্থায় নিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে চীন।

