
লেখিকার কন্যার ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর কথা স্বীকার করার পর অ্যালিস মুনরোর স্বামী আদালতে বক্তব্য প্রদাণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে যৌন নির্যাতনে ভুক্তভোগীদের জন্য গৃহীত কর্মসূচিতে ১০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছিলেন তিনি। আদালতের নথিতে এমনটাই জানা গেছে।
জেরাল্ড ফ্রেমলিন ২০০৫ সালের ১১ মার্চ অন্টারিওর গোডেরিচ আদালতে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেন। তার সৎ মেয়ে আন্দ্রিয়া স্কিনার তার শৈশবে নির্যাতনের স্বীকার হওয়ার কথা জুলাইয়ের শুরুর দিকে টরন্টো স্টারে লিখে প্রকাশ করার আগ পর্যন্ত এ কথা প্রকাশ করা হয়নি।
দোষী শব্দটি উচ্চারণ করার পর সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক জন কেনেডি ফ্রেমলিন আদালতে কিছু বলতে চান কিনা তা জানতে চান। জবাবে ফ্রেমলিন বলেন, না, মহামান্য আদালত।
তার আগে ক্রাউন বলেন, ফ্রেমলিন ইয়র্ক রিজিয়ন অ্যাবিউজ প্রোগ্রামে ১০ হাজার ডলার দান করেন।
আন্দ্রিয়া স্কিনারের বিবৃতি প্রদর্শিত হচ্ছে। কিন্তু আদালত জানতে পেরেছে যে, তিনি নিজে আদালতে হাজির হতে ও আদালতে তা পড়তে রাজি নন। বিবৃতিটি সজোরে পাঠ করা হয়নি। চার পৃষ্ঠার বিবৃতি পড়তে বিচারক কিছুটা সময় নেন।
বিচারক বলেন, ভুক্তভোগীর বিবৃতি আদালতের সামনে যা আছে তার চেয়ে বড় রেফারেন্স তৈরি করেছে। বিশেষ করে অবৈধ আচরণের ক্ষেত্রে।
টরন্টো স্টারের নিবন্ধে স্কিনার লিখেছেন, ফ্রেমলিনের যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন শুরু হয় ১৯৭৬ সালে, যখন তার বয়স ৯ বছর। এবং অন্টারিওর ক্লিন্টনে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসার সময় কয়েক বছর ধরে তা চলতে থাকে।
স্কিনার লিখেছেন, ফ্রেমলিন তার বিছানায় আসার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হন। কার রাইডের সময়ও তিনি নিজেকে অনাবৃত করেন এবং যৌন উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য করতে থাকেন।
স্কিনার বলেছেন, মুনরো শেষ পর্যন্ত এই নির্যাতনের বিষয়টি জেনেছিলেন। কিন্তু কন্যার পরিবর্তে ফ্রেমলিনের পক্ষ নেন। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুনরো ফ্রেমলিনের মৃত্যুর এক দশকেরও বেশি সময় পর মে মাসে ৯২ বছর বয়সে মারা যান।

