
পুরোপুরি একটি পরিবারকে তাদের মিসিসোগার রেস্তোরাঁয় গুলি করার সন্ত্রাসী পরিকল্পনার মামলায় ৪ জুন তারকা রাজসাক্ষীর বক্তব্য শুনেছে আদালত। সাক্ষী মিখাইল আরাস বলেন, লুকিয়ে থাকা কারের ট্রাঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসা গুলিবর্ষনকারী আনন্দ নাথকে দেখার সময় তিনি গ্রুপের একটি গুদামে ছিলেন। ২০২১ সালের মে মাসের মিশন থেকে গাড়িটি ফিরে আসে এবং তাকে তাদের সঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু এর পরিবর্তে তিনি পুলিশের কাছে যান।
আরাস তার সাক্ষ্যে বলেন, ট্রাঙ্কটি খোলার পর হুডি পরিহিত আনন্দ বেরিয়ে আসে। তার চোখ ছিল খোলা এবং ভয়ার্ত। সেখানে কোনো প্রাণ ছিল না। কী ঘটেছে আমি জানতে চাইলাম। সে বলে, কিছু হয়নি। আমাদের প্রার্থনায় যেতে হবে।
আনন্দ নাথ, সুলাইমান রাজা ও নাকাশ আব্বাসির বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যা মামলার বিচারে আরাস যেসব সাক্ষ্য দিয়েছেন এটা ছিল তার মধ্যে অন্যতম অস্বাভাবিক মুহূর্ত। ২০২১ সালের ২৯ মে চিকেন ল্যান্ড রেস্টুরেন্টে হামলায় এই তিন ব্যক্তি অভিযুক্ত। নাথ ২৫ বছর বয়সী নাঈম আকলিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। ওই সময় গুলিতে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও কর্মীরাও আহত হন। রাজার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিশনে অংশ নেওয়া গাড়ি চালানোর এবং আব্বাসি এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত। তিনজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
আরাস বলেন, কয়েক বছর আগে এলাকার একটি মসজিদে আব্বাসির সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং ২০২১ সালে আব্বাসি তাকে নাথকে কয়েকদিনের জন্য তার সঙ্গে রাখতে বলেন। আরাস তাতে রাজি হন এবং মে মাসের শেষ দিকে নাথ তার সঙ্গে আসে।
২৯ মে নাথ ও রাজার সঙ্গে কিম্বেল স্ট্রিটে ট্রায়ালিঙ্কের ওয়্যারহাউজে শপিংয়ের জন্য যান। ট্রায়ালিঙ্ক কম দামের পণ্য বিদেশ থেকে আম্যাজনের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করত। ভিডিওতে এই ত্রয়ীর সদস্যদের ওই পণ্য বাজারজাত করতে দেখা যায়। এসব পণ্য ছিল মূলত বাসনপত্র ও খেলনা।
খারাপ বিনিয়োগ নিয়ে আব্বাসি ও আকলির মধ্যে এক পর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। আকলি ওই সময় গুদামে কাজ করছিলেন। নজরদারি ভিডিওতে রাজার গাড়িটি ভবনের লটে প্রবেশ করতে ও বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। ফোনে আব্বাসি ও নাথের মধ্যকার কথোপকথন শোনেন বলে আরাস আদালতকে জানান। আব্বাসিকে তিনি বলতে শোনেন, সে প্রস্তুত কিনা। জবাবে নাথ বলে, হ্যা, আল্লাহর রহমতে আমি এটা করার জন্য প্রস্তুত।
এরপর তারা চলে যান এবং কিছুক্ষণ পরই ফিরে আসেন। নাথ ট্রাঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তারা কোথায় ছিল তার কোনো ব্যাখ্যা দেয় না। নাথেল চুল গুলি করার আগে লম্বা থাকলেও হঠাৎই মাথা কামিয়ে ফেলে বলে জানান আরাস। তিনি বলেন, পরদিন আরাসকে তাদের গুদামে ডাকা হয় এবং আব্বাসি তার হাতটা তার দিকে এগিয়ে দিয়ে ইসলামিক স্টেট বা আইসিসের প্রধানের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য তাকে ওয়াদা করতে বলে। ওই সময় আইসিসের প্রধান ছিলেন আবু ইব্রাহিম আল-হাশিমি আল-কুরাশি। তারা বলে, আমি যেদি সেটা করি তাহলে এই হচ্ছে গোপন ফরম এবং তারা তার ওপর আস্থা রাখতে পারে। তখনই আব্বাসি পরিকল্পনার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে।

