
ডেভিড ম্যাটিয়ার শেষ পর্যন্ত যখন ডাউনটাউন ফোর্ট ম্যাকমারে হসপিটালের বাইরে পা রাখেন তখন যেনো আগুনের দেওয়াল সামনে পড়ে। হাসপাতালের সর্বশেষ রোগীকে তড়িঘড়ি করে বাইরে এনে অপেক্ষমাণ একটি বাসে তুলে দেওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ওই সময় নর্দার্ন আলবার্টার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জ্যেষ্ঠ পরিচালন পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন ম্যাটিয়ার। তিনি বলেন, গাছগুলোও দেখা যাচ্ছিল না। আগুন একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। আক্ষরিক অর্থে এটি মাত্র ২০০ মিটার দূরে ছিল।
উত্তর আলবার্টার আকাশ রক্তিম বর্ণ হয়ে উঠেছিল, যার ফলে তেড়ে আসতে থাকা আগুন থেকে বাঁচতে হাজার হাজার বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়তে হয়।
সেটা ছিল আট বছর আগের ঘটনা এবং কানাডিয়ান ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মেডিকেল ইভাকুয়েশন হয়েছিল ওই সময়। প্রত্যেকেই নিরাপদে বের হতে পেরেছিলেন। যেখানে এসে আগুন থেমে গিয়েছিল সেই নর্দার্ন লাইটস রিজিয়নাল হেলথ সেন্টারটি এখনো একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ধোঁয়ায় এর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।
যে ৯০ হাজার মানুষকে সেবার এলাকা ছাড়তে হয়েছিল তাদেরকে হাসাপাতাল ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সেবা স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা পরিষ্কার করতে হয়েছিল এবং ৮ হাজার ২০০টি সিলিং টাইলসের প্রতিটি প্রতিস্থাপন করতে হয়েছিল।
ম্যাটিয়ার বলেন, হাসপাতালগুলোকে রক্ষায় কানাডা আরও বেশি কিছু করতে পারে এবং এটা অনেক ব্যাপক পরিসরে হওয়া উচিত।
এর অর্থ হচ্ছে কানাডার হাসপাতালগুলোকে ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে সুরক্ষিত করতে পারে। এমনটাই বলেন কানাডিয়ান ক্লাইমেট ইনস্টিটিউটের অ্যাডাপ্টেশন রিসার্চের পরিচালক রায়ান নেস। তিনি বলেন, আগুন, বন্যা, তাপদাহ ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার মতো দূর্যোগ যেমন লোকজনকে জরুরি কক্ষে নিয়ে আসে একইভাবে হাসপাতালগুলোর ওপরও আঘাত হানে।
সামনের বছরগুলোতে যেহেতু জলবায়ু সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতির সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে তাই দেশের কিছু অংশের দ্রুততার সঙ্গে দূর্যোগ-প্রতিরোধী জীবনরক্ষাকারী অবকাঠামোর দিকে যেতে হবে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সেটা খুবই জরুরি। দেশের প্রতিটি অংশের প্রতিটি স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষ, প্রতিটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এটা বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন রায়ান নেস।

