
গাজা ভূখন্ডে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও হামাস নেতাদের বিচারের উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।
আদালতের প্রধান কৌসুলি ২০ মে নেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং জ্যেষ্ঠ হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অনুরোধ করেছেন।
২১ ফিলাডেলফিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাদের কাজে স্বাধীন। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রত্যেকের সম্মান দেখানো ও তা মেনে চলা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ প্রথম দিন থেকেই আমি তা বলে আসছি। আমি মনে করি না যে, এটা খুব একটা কাজে আসবে।
২০ মে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সমমনা দেশগুলো ইসরায়েলকে দায়ী করার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবং ফ্রান্স ও বেলজিয়াম এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানানোর মতো স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার পর ট্রুডো ও তার মন্ত্রীরা বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছেন। কানাডার ইহুদি ও মুসলিম গ্রুপগুলো অটোয়া যাতে স্পষ্ট অবস্থান নেয় সে ব্যাপারে পিটিশনের প্রচারণা জোরদার করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেন, কানাডা মামলাটির দিকে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং ইসরায়েলি নেতৃত্ব ও হামাসের মধ্যে সাজুয্য আনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও আদালত এই সংঘাতের উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগ গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে। এই দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সাজুয্য নেই। কারণ, একটি পক্ষ সন্ত্রাসী সংগঠন এবং অন্যটি একটি রাষ্ট্র। যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তা আলাদা।
আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা কানাডা সফর করলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে কিনা সে ব্যাপারে কিছু বলেননি জোলি। তিনি বলেন, এটা একটি তাত্ত্বিক পরিস্থিতি। সন্ত্রাসবাদ ও অবরোধ আইনের কারণে জ্যেষ্ঠ হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঘোষণার খবর প্রকাশের পর উচ্চকণ্ঠ কিছু লিবারেল এমপি আরও সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। টরন্টো এরিয়া রাইডিংয়ের প্রতিনিধি ইকরা খালিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, কানাডাকে অবশ্যই আইসিসি ও এর স্বাধীনতাকে সম্মান দেখাতে হবে।

