
পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এপ্রিলে কানাডার বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বিষয়টি আগামী মাসে সুদের হার কর্তনের প্রত্যাশাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা বলেছে, মার্চের ২ দশমিক ৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ায় ভূমিকা রেখেছে খাদ্য মূল্য, সেবা ও ডিউরেবল পণ্য।
২১ মের ভোক্তা মূল্যসূচক প্রতিবেদনে ব্যাংক অব কানাডার জন্য সুসংবাদ রয়েছে। কারণ, তারা মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যের দিকে টেকসই হ্রাসের দিকে তাকিয়ে আছে। যেসব অর্থনীতিবিদ কেন্দ্রীয় ব্যাংক জুনে প্রথমবারের মতো সুদের হার কমাবে বলে প্রত্যাশা করছেন সাম্প্রতিক উপাত্ত তাদের সেই দাবিকেও আরও বেশি আত্মবিশ^াসী করেছে। আর্থিক বাজারও আগামী মাসে সুদের হার ৫০ শতাংশের বেশি হ্রাসের সম্ভাবনা দেখছে।
মূল্যস্ফীতির ধারাবাহিক পতন এবং আসন্ন সুদেতর হার কর্তনে সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের জন্যও খানিকটা স্বস্তি এনে দিতে পারে। ২১ মে এক সংবাদ সম্মেলনে সর্বশেষ মূল্যস্ফীতির তথ্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে তার সরকার সুদের হার কর্তনের মঞ্চ তৈরি করে দিতে সহায়তা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্রিল্যান্ড বলেন, আর্থিকভাবে দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের সরকার ব্যাংক অব কানাডাকে সহায়তার জন্য সম্ভাব্য সব কিছুই করছে। সেই সঙ্গে ব্যাংক অব কানাডা যাতে যত দ্রুত সম্ভব সুদের হার কমাতে পারে সেজন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছে।
ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর টিফ ম্যাককেনি বলেছেন, গত মাসে যে ফেডারেল বাজেট পেশ করা হয়েছে মূল্যস্ফীতির ওপর তার খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।
জীবনযাত্রার ব্যয়ের ইস্যুতে গত গ্রীষ্ম থেকে জনমত জরিপে কনজার্ভেটিভদের চাপের মুখে রয়েছে ক্ষমতাসীন লিবারেলরা।
বিশেষ করে গ্রোসারি পণ্যের দ্রুত মূল্য বৃদ্ধি প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় খাদ্য মূল্য লক্ষ্যণীয়ভাবে বেশি থাকলেও এপ্রিলে গ্রোসারি পণ্যের দাম বৃদ্ধির গতি মোটামুটি অবস্থায় ছিল। এক বছর আগের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে গ্রোসারি পণ্যের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।

