
কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে যদি আপনাকে সাময়িক কর্মচ্যুত (লে অফ) করা হয় তাহলে আসলে সেটি ছাঁটাই। এটা বুঝতে জেসিকা কুতিনহোর মামলাটিই যথেষ্ট।
জেসিকা কুতিনহো অপথালমিক টেকনিশিয়ান হিসেবে ওকুলার হেলথ সেন্টার লিমিটেডে কাজ শুরু করেন ২০১৪ সালে। ২০১৮ সালে তিনি ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি পান। কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর হওয়ার সময়ও সেই দায়িত্বেই তিনি ছিলেন এবং বেতন পেতেন বছরে ৫২ হাজার ৯০০ ডলার।
প্রদেশের অধিকাংশ এলাকায় লকডাউন কার্যকর হওয়ার পরও কাজ চালিয়ে গেছেন কুতিনহো। কিন্তু গত ১ মে হঠাৎ বদলে যায় পরিস্থিতি। রোজকারের মতো এদিন ওকুলারের কেম্ব্রিজ ক্লিনিকে যান তিনি। মার্ক রেইনস্ট্রা নামে ক্লিনিকের একজন প্রাধ্যক্ষ ও দুইজন ডাক্তার এ সময় কুতিনহোর সঙ্গে দেখা করেন। রেইনস্ট্রান তাকে জানিয়ে দেন, ক্লিনিকে কুতিনহোর প্রবেশ নিষিদ্ধ।
বাড়িতে ফিরে আসার পর রেইনস্ট্রার ফোন পান কুতিনহো। ফোনে তিনি বলেন, কেম্ব্রিজ ক্লিনিক বন্ধের বিষয়টি আপনি জানেন। তবে বেতন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত আপনার বেতন আপনি পাবেন। আমি বিষয়টি দেখব। বিষয়টি নিয়ে যদি আপনার সহকর্মী ডাক্তারদের সঙ্গে আলাপ করতে যান তাহলে সেটা আপনার চাকরিচ্যুতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এরপর ২০২০ সালের ২৯ মে এক চিঠিতে রেইনস্ট্রা কুতিনহোকে জানিয়ে দেন যে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাকে স্বপদে ফিরিয়ে আনতে অকুলার যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। অন্টারিওর ইনফেকশন্স ডিজিজ ইমার্জেন্সির লিভের (আইডেল) আওতায় পড়ে যান কুতিনহো।
মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও অকুলার থেকে ডাক আসে না। উপায়ান্তর না দেখে ২০২০ সালের জুলাই মাসে আরও দুই ডাক্তারের সঙ্গে টাই-সিটি আই নামক একটি ক্লিনিকে নতুন চাকরি নেন কুতিনহো। বেতনও বেশ ভালো।
এখানেই গল্পের শেষ নয়। ২০২০ সালের মে মাসে কুতিনহোকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার সময় ২ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে অকুলারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। মামলার বিচার শুরু হওয়ার আগে এ বিষয়ে কিছু নথি উপাস্থাপন করে অকুলার। সেখানে তারা যুক্তি দেখায় যে, আইডেল অন্তর্ভূক্তিসহ আইনে পরিবর্তন আনার কারণে কুতিনহোর সাময়িক চাকরিচ্যুতি স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির উদ্দেশে নয়। অকুলারের এ যুক্তি আমলে না নিয়ে কুতিনহোর চাকরিচ্যুতিকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির আয়োজন বলে রায় দেন আদালত।

