
বিমা নেই এমন ব্যক্তিদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার যে কর্মসূচি এ মাসের শেষে তা বন্ধ করছে অন্টারিও সরকার। প্রান্তিক কমিউনিটিগুলোর জন্য এটা খুবই উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেছেন কিছু চিকিৎসক।
কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার পর ২০২০ সালের মার্চে অন্টারিও হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্ল্যানের (ওএইচআইপি) অধীনে বিমা কাভারেজ নেই এমন ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে চিকিৎসকদের জন্য অস্থায়ী তহবিলের বন্দোবস্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই কর্মসূচির আওতায় যেকোনো ব্যক্তি চিকিৎসক ও হাসপাতালের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পেতেন। ৩১ মার্চ থেকে এই অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার।
অন্টারিওর হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কাছে পাঠানো এক নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে বিমাহীন রোগীদের ক্ষেত্রে মহামারি পূর্ববর্তী সময়ের মতো বিলিং চর্চায় ফিরে যেতে হবে হাসপাতালগুলোকে। মহামারি পূর্ববর্তী সময়ের মতোই বিমাবহির্ভুত রোগীরা সরকারি অর্থায়নের কিছু স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, মিডওয়াফারি, জনস্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা এর মধ্যে অন্যতম। কোনো ব্যক্তির হেলথ কার্ডের স্ট্যাটাস যাই হোক না কেন জীবনহানীর হুমকি রয়েছে এমন স্বাস্থ্য সমস্যায় কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারে না অন্টারিওর সরকারি হাসপাতালগুল।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্টারিও মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (ওএমএ)। তারা বলেছে, সামাজিক নানা বাধা যাদের মোকাবিলা করতে হয় অন্টারিওর সেইসব প্রান্তিক লোকজনের জীবন-জীবিকার জন্য এটা মারাত্মক হুমকি।
অন্টারিওর চিকিৎসকদের রাজনৈতিক, ক্লিনিক্যাল ও অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন এএমএ বলেছে, এর পরিবর্তে সরকার চিকিৎসকদের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করতে চাইছে। কারণ, কিছু
চিকিৎসক কোনো ফি ছাড়াই বিমাবহির্ভুত রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন।
ইউনিভার্সিটি হেলথ নেটওয়ার্কের ডা. অ্যান্ড্রু বুজারি বলেন, ২০২০ সালে যখন কর্মসূচিটি শুরু হয় তখন এটা ছিল গেম চেঞ্জার। কারণ, অন্টারিওর ৫ লাখের মতো মানুষের কোনো স্বাস্থ্যবিমা নেই।

