
কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় ম্যানিটোবায় পিপল’স পার্টি অব কানাডার নেতা ম্যাক্সিম বার্নিয়েরকে গ্রেপ্তার করেছে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)। শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ম্যানিটোবার জনসমাগমের সর্বোচ্চ যে সীমা রয়েছে তা লঙ্ঘন ও প্রদেশে প্রবেশের পর নিভৃতবাসের বিধান উপেক্ষা করার কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। বার্নিয়ের সাবেক কনজার্ভেটিভ এবং স্টিফেন হারপারের সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। বার্নিয়েরের বর্তমান দল পিপল’স পার্টি ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিলেও কোনো আসনেই জিততে পারেনি।
বার্নিয়েরকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার কথা জানিয়ে আরসিএমপির মুখপাত্র টারা সিল বলেন, ম্যানিটোবার আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা আরসিএমপির দায়িত্ব। বার্নিয়ের জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত আদেশগুলো সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং এটা লঙ্ঘনের দায়ে আগের একবার টিকিটও পেয়েছেন। বিদ্যমান জনস্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রাখার ফল হিসেবে এই গ্রেপ্তার।
ম্যানিটোবার বিচারক বার্নিয়েরের নাম উল্লেখ না করেই এক বিবৃতিতে বলেছেন, জনস্বাস্থ্য আদেশ উপেক্ষা করে নিভারভিল ও সেন্ট-পিয়েরে-জোলিসে অবৈধ জমায়েতের কারণে এবং প্রদেশে এ ধরনের জমায়েত আয়োজন ও অংশগ্রহণ বন্ধ করতে কুইবেকের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এরপর বার্নিয়েরের টুইটারে অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আরসিএমপির একজন কর্মকর্তাকে তাকে হাতকড়া পরাচ্ছেন এবং তার কাছে কোনো অস্ত্র আছে কিনা তা জানতে চাইছেন।
এ ঘটনায় পিপল’স পার্টির একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, বার্নিয়েরকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে কানাডিয়ান নাগরিক হিসেবে তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এ গ্রেপ্তার কোভিড সংক্রান্ত নয়। এটা রাজনৈতিক নিপীড়ন।
উল্লেখ্য, সমগ্র কানাডায় ম্যানিটোবাতেই জনপ্রতি কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সব ধরনের গণজমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। সেই সঙ্গে কেউ যদি প্রদেশে প্রবেশ করে তার জন্যও ১৪ দিনের নিভৃতবাস বাধ্যতামূলক করেছে। বার্নিয়েরের বিরুদ্ধে দেশজুড়েই বিভিন্ন সমাবেশে হাজির হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত সপ্তাহে অন্টারিওর ওয়াটারলুতে এক সমাবেশেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

