
কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক ইতিহাস গড়লেন ডলি বেগম। কানাডার রাজনৈতিক ইতিহাসে ডলি বেগম প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি। গত ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট আসনের উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইতিমধ্যেই ডলিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, তিনি মোট ২০,১১৪ ভোট পেয়ে প্রায় ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট অর্জন করেন, যা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বিশাল ব্যবধান।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডায়ানা ফিলিপোভা পেয়েছেন ৫,৩০০ ভোট (১৮ দশমিক ৪ শতাংশ)। এছাড়া ফাতিমা শাবান পেয়েছেন ১,৭১৪ ভোট (৬ শতাংশ) এবং পূজা মালহোত্রা পেয়েছেন ৭১১ ভোট (২ দশমিক ৫ শতাংশ)। এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, ভোটারদের বড় অংশ ডলি বেগমের প্রতি আস্থা রেখেছেন।
ডলি বেগমের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি এর আগে টানা তিনবার এমপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যেখানে তিনি শিক্ষা, সামাজিক সেবা এবং কমিউনিটি উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সেই অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি তাকে এই নির্বাচনে আরও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, স্বাস্থ্যসেবা এবং নতুন অভিবাসীদের সহায়তাকে প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন। তার সরাসরি জনসংযোগ, কমিউনিটি পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি এবং বাস্তবমুখী প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, সংগঠিত প্রচারণা এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাই তাকে এই বড় ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে এই বিজয় বহুসাংস্কৃতিক সমাজে অভিবাসী পটভূমি থেকে উঠে আসা নেতৃত্বের শক্ত অবস্থানকেও তুলে ধরেছে।
বিজয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় বাংলামেইলকে ডলি বেগম বলেন, এই অর্জন পুরো কমিউনিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি এলাকার মানুষের আস্থা রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ডলি বেগমের এই বিজয়ে কানাডার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দের বন্যা বইছে।

