
কালোবাজারে চড়া দামে টিকিট ক্রয় থেকে ক্রেতাদের সুরক্ষা দিতে প্রদেশের পরিকল্পনা তাদেরকে (ক্রেতাদের) আরও খারাপ অবস্থায় ফেলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, ফেসভ্যালুর চেয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রি নিষিদ্ধ করার ফলে আরও বেশি সংখ্যক টিকিট তৃতীয় পক্ষের বাজারে চলে যেতে পারে।
ফিফা বিশ^কাপ সামনে রেখে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রি অবৈধ ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথা এ মাসের গোড়ার দিকে জানায় ডাগ ফোর্ড সরকার। প্রিমিয়ার টিকিট কালোবাজারিদের সরাসরি সমালোচনা করে বলেন, গ্রাহক ঠকানোর এই দিন শেষ।
টরন্টো ব্ল জেসের অসাধারণ সাফল্যের পরই টিকিট পুনবিক্রয় পর্যালোচনার ইঙ্গিত দেন ফোর্ড। ওই সময় টিকিটের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল। গেম ৭ এর কোনো কোনো টিকিট কালোবাজারে ১৬ হাজার ডলারেও বিক্রি হয়েছিল। গত অক্টোবরে সাংবাদিকদের ফোর্ড বলেন, বাজারে যখন একজন মাত্র খেলোয়াড় থাকে তখন সে টিকিট নিয়ন্ত্রণ করে। জনগণের জন্য এটা সঠিক নয়।
পাবলিক অ্যান্ড বিজনেস সার্ভিস ডেলিভারি অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট মন্ত্রণালয় সিটিভি নিউজ টরন্টোকে নিশ্চিত করেছে যে, ২০১৭ সালের টিকিট সেলস অ্যাক্টে সংশোধনের যে প্রস্তাব সরকার করেছে তাতে প্রদেশে কনসার্ট, স্পোর্টস রএবং অন্যান্য লাইভ অনুষ্ঠানের টিকিট মোট মূল দামের বেশিতে বিক্রি নিষিদ্ধ করা হবে। এই দামের মধ্যে রয়েছে ফি, সার্ভিস চার্জ এবং প্রযোজ্য কর।
নতুন এই রূপরেখার অর্থ হলো আপনি যদি ৬০০ ডলারে কোনো কনসার্ট টিকিট ক্রয় করেন এবং কারো কাছে তা এক হাজার ২০০ ডলারে বিক্রি করেন তাহলে ওই ব্যক্তিকে তা মূল দাম ৬০০ ডলারেই বিক্রি করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন গড়পড়তা ভোক্তাদের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে। কারণ, এর মাধ্যমে আরও স্ক্যামার এই বাজারে ঢুকে পড়তে পারে এবং অনিয়ন্ত্রিত মার্কেটপ্লেটের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, যার চূড়ান্ত ফল হবে কালোবাজার আরও বেশি অন্ধকার হবে।
এই সীমা আরোপের ফলাফল কী হতে পারে তার একটি রূপরেখা এঁকেছেন রটম্যান স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক রিচার্ড পাওয়ার্স। তার মতে, টিকিটমাস্টার এবং স্টাবহাবের মতো বৈধ রিসেল প্ল্যাটফরমে প্রণোদনার ঘাটতি তৈরি করতে পারে এটি। এখানে অবশ্যই প্রণোদনা থাকতে হবে। তাদের মুনাফা করতেই হবে। তা না হলে কেন তারা টিকিট বিক্রি করবে? এর ফলে নিশ্চিতভাবেই কালোবাজারে টিকিট বিক্রি উৎসাহিত হবে।

