
গত ৮ নভেম্বর বিকেলে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম সাহিত্য সংগঠন বাংলাদেশ লেখিকা সংঘের কানাডা শাখা একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। টরন্টোর বাংলাদেশ সেন্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কারবরো সাউথওয়েস্টের এমপিপি ডলি বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস। দুই পর্বে বিভক্ত এই আয়োজনের প্রথম পর্বে ছিল আলোচনা। রূমানা চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনায় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রোমেনা হক রুমা। পরিচালনায় ছিলেন দিলরুবা আলম।
ডলি বেগম এবং চয়নিকা দত্ত কানাডায় লেখিকা সংঘের শাখা সদস্যদের কার্যক্রমকে প্রশংসা করেন। বাংলা ভাষাকে প্রবাসের মাটিতে মূলধারার অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবার জন্য ডলি লেখকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। সম্প্রতি অন্টারিওর ড্রাইভিং টেস্ট পরীক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করায় সুব্রত কুমার দাসের আহ্বানে এই অনুষ্ঠানে ডলি বেগমকে উপস্থিত দর্শকেরা দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন।
সুব্রত কুমার দাস দার্ঢ্যকণ্ঠে বলেন, অন্যের লেখাকে কপি করে যেই মানুষ নিজের বলে প্রচার করে, সে কখনও বড়ো লেখক হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, যে অসৎ মানুষ নিজে একটি শুদ্ধ বাক্য ইংরেজিতে লিখতে পারে না, সে এআই দিয়ে ইংরেজি কবিতা লিখে ফেসবুকে পোস্ট করলেই কবি হয়ে যাবে না। তিনি বলেন, লেখক হবার একটাই উপায়, সেটি হলো এখনই লিখতে শুরু করা।
রোমেনা হক রুমার পরিকল্পনা ও পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে লেখিকা সংঘের সদস্যেরা ষড়ঋতুর উপর গীতিআলেখ্য ‘সমৃদ্ধ ঋতুবৈচিত্র্য’ পরিবেশন করেন। এতে রোমেনা হক রুমা ছাড়াও অংশ নেন সৈয়দা রুখসানা বেগম, ঝিনুক রহমান, লামিয়া আফরোজ, রোকেয়া সুলতানা, ইতিহাস কাজী আইনুন আফরোজ, সৈয়দ জাহান, ফরিদা হক, জেবুন নাহার, জেবুন নাহার ওয়াসিম প্রমুখ। ধারা বর্ণনায় ছিলেন সামিনা চৌধুরী। তবলা সংগত ও শব্দযন্ত্র পরিচালনায় ছিলেন মামুন।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ লেখিকাসংঘ কাজ শুরু করে।

