
টরন্টোর জেরার্ড ইন্ডিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত হলো উত্তর আমেরিকার বৃহত্তম দুই দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় স্ট্রিট ফেস্টিভ্যাল— টিডি ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া ২০২৫। এবারই প্রথমবারের মতো এই উৎসবে যোগ দিলো একটি পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন, যা ছিলো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক গৌরবময় ঐতিহাসিক মাইলফলক। বাংলা ইভেন্টস জিটিএ এবং জেরার্ড ইন্ডিয়া বাজার যৌথভাবে এই প্যাভিলিয়নের আয়োজন করে। প্যাভিলিয়ন বাস্তবায়নের মূল উদ্যোক্তা ও সংগঠক নাফিজ ইমতিয়াজ, যাঁর নেতৃত্বে এবং নিরলস প্রচেষ্টায় এ মহাযজ্ঞ সফল হয়।
একটি স্ট্রিট ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করতে গেলে সিটি কাউন্সিল, পরিবহন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, পাবলিক হেলথ, লাইসেন্সিংসহ বহু সরকারি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। এসব অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনার পুরো দায়িত্ব নিজ কাঁধে নেয় GIBBIA, ফলে আয়োজকদের শুধু বাংলাদেশের পরিচিতি ও সংস্কৃতি তুলে ধরার কাজেই মনোনিবেশ করা সম্ভব হয়। ফেস্টিভ্যাল পরিচালক তাসনীম গান্ধী বান্দুকওয়ালার নেতৃত্বে আয়োজকদের সব রকম সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়।
ফেস্টিভ্যালে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের অংশগ্রহণ থাকলেও শুধুমাত্র বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নেরই ছিলো নিজস্ব পারফরম্যান্স স্টেজ। উৎসবে প্রায় ২.৫ লাখ দর্শক অংশগ্রহণ করে এবং বাংলাদেশ স্টেজে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ১০৫ জন শিল্পী গান, নাচ, আবৃত্তি ও বাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করেন। শুধু কানাডার জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি বাজানো হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, যা ছিলো এক গর্বময় মুহূর্ত।
নৃত্য পরিবেশনায় ছিল নৃত্য কলা কেন্দ্র, তাপস ডান্স গ্রুপ, নূপুর একাডেমি, নৃত্যধারা, গার্গী লাহিড়ী ও শ্রাবণী জলি এবং পারোমিতা টিনি। সংগীত পরিবেশনায় বৈশাখী, এফএম ব্যান্ড, বাউণ্ডুলে, ফ্যাবিয়ান চৌধুরী ও দল এবং লাজারা ব্যান্ড অংশ নেয়। এছাড়াও ছিলো উদীচীর দলীয় গান, একক শিল্পীদের কণ্ঠে দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান, শিশুদের নৃত্য, গান, আবৃত্তি ও বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা।
সাংস্কৃতিক মঞ্চ পরিচালনায় ছিলেন অজন্তা চৌধুরী ও শাফায়েত চৌধুরী, যাঁরা উপস্থাপনা, সময়সূচী, মঞ্চ ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারসহ নানা দায়িত্ব পালন করেন। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ডি জে ইমন-এর কৌশলী ব্যবস্থাপনায় দর্শক-শ্রোতারা পান উচ্চমানের শব্দ ও পরিবেশনা।
প্যাভিলিয়নে ছিলো ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল, হস্তশিল্প, বই, জামদানি, গয়না, নকশিকাঁথা, রিকশা ও পল্কির প্রদর্শনী, শিশুদের জন্য ফেস পেইন্টিং, বেলুন, রঙ করার ব্যবস্থা, এবং একটি সম্পূর্ণ বাংলার আবহে সাজানো স্টল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমপিপি ডলি বেগম, টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ, বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ফারুক হোসেন, জেরার্ড ইন্ডিয়াবাজার বিআইএ’র নির্বাহী পরিচালক তাসনীম গান্ধী বান্দুকওয়ালা এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শহিদুল ইসলাম মিন্টু।
পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন আশরাফ খান (গোল্ড), শামিম আরা (সিলভার), ওমর হাসান আল জাহিদ ও ফরহাদ আহমেদ (ব্রোঞ্জ)। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিলো এনআরবি টিভি, প্রবাসী টিভি, যমুনা টিভি, সাপ্তাহিক বাংলা মেইল, দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলা কাগজ, দৈনিক যুগান্তর, প্রবাসী কণ্ঠ, সাপ্তাহিক ভোরের আলো এবং ইউটিউব চ্যানেল ‘ট্রাভেল উইথ সাদিয়া’, ‘আনোয়ার ও রাইসা’ প্রমুখ।
মুদ্রণ সহযোগিতায় ছিলো এমজে প্রিন্টিং (মীর জুয়েল) এবং লজিস্টিক সহায়তা দেন মেহেদি হোসেন। এই আয়োজনে আরো বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন হুতাইব বান্দুকওয়ালা, সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, নাহিদা সোবহান, রিংকু, নাসরিন আখতার জাহান, এস এম জাকির, সাবরিনা জুইনা, ইমাম উদ্দিন, জেড এফ খান, মো. শাকিল, খদিজার বাবা দিন ইসলাম, মাসুদ পারভেজ, মোহি রাহমাতুল্লাহ, তাপস কর্মকার, রিংকি আহমেদ, ইরিন সুলতানা, রাসেল রহমান, জিশান সুলতানা, মুন্নি, পদ্মা রেস্টুরেন্ট, রনি ইউসুফ, মনিস রফিক, আতওয়ার রহমান, খুরশিদ আলম, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, সঞ্জয় চাকি এবং আরও অনেকে।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন শুধু একটি স্টল বা সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, এটি ছিলো প্রবাসে বাংলাদেশের এক গর্বিত পরিচয়। এই উৎসব প্রমাণ করেছে—প্রবাসেও বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে।

