
আবহাওয়ার বাইরেও ঐতিহাসিকভাবে কানাডায় বসন্তের অর্থ হলো এখানকার আবাসন বাজারের উষ্ণতা পাওয়া। কিন্তু এ বছর অবস্থা কিছুটা ভিন্ন মনে হচ্ছে।
অনেক গবেষক আবাসন বাজারের শুরু স্বাভাবিকের চেয়ে শ্লথগতির কথা বলছেন। সেটা বাজারের গতি বলুন বা নতুন বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বলুন। ক্রেতারা এমন অবস্থার মধ্যে পড়েছেন যে অবস্থায় তাদের বাড়ি কেনার বিষয়টি নির্ভর করছে অগ্রাধিকার, বাজেট এবং কতটা আপোষ করতে তারা সম্মত।
রয়্যাল লাপেজের গবেষণা বিশেষজ্ঞ অ্যানি-এলিস অ্যালেগ্রিটি বলেছেন, বসন্তের শুরুটা হয়েছে কিছুটা ধীর। এর কারণ মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে ফলে দেশের অর্থনীতি নিয়ে আস্থার অভাব। কানাডিয়ানদের মনস্তত্বের ওপর এটা ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
দি কানাডা রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরইএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে বাড়ি বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বেশ কয়েক মাস মন্দার পর এপ্রিলেও আবাসন বাজারে প্রকৃতপক্ষে খুবই কম পরিবর্তন এসেছে বা কোনো পরিবর্তনই আসেনি।
অ্যালেগ্রিটি বলেন, বাজার এখনো সত্যিকার অর্থে চাঙ্গা হয়নি। কিন্তু খারাপও হচ্ছে না। এটাই টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। এপ্রিলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ক্রেতারা প্রকৃতপক্ষে তাগিদ অনুভব করছে না। মে মাসের উপাত্ত কেমন হয় সেটা দেখার অপেক্ষায় আমি আছি।
বাজারের বাইরে অবস্থান করা সম্ভাব্য ক্রেতারা হয়তো অর্থনৈতিক পূর্বাভাস উন্নতির অপেক্ষায় থাকবেন। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বৈশি^ক অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলে সেই বিবেচনা থেকে।
জুনে ব্যাংক অব কানাডা তাদের মুদ্রানীতি হালনাগাদ করার ব্যাপারে জুনে কী সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপর নির্ভর করে কানাডার আবাসন বাজার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। এর অর্থ হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিনির্ধারণী সুদের হার বর্তমানে যেখানে আছে সেখানেই রেখে দেবে অথবা কমিয়ে আনবে। অর্থাৎ, অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা কম মর্টগেজের হারের সুযোগ পাবেন। সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে। সুদের হার সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত আগামী ৪ জুন ঘোষণা করা হবে।

