
ওয়াল স্ট্রিট বৃহস্পতিবার বড় ধরনের ঝাঁকুনি খেয়েছে এবং কোভিড-১৯ বিশ^ব্যাপী আর্থিক খাতকে ছিন্নভিন্ন করার পর এমনটা আর দেখা যায়নি। এই ঝাঁকুনিটা এসেছে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রসহ উপমহাদেশজুড়ে অর্থনীতির কতটা ক্ষতি করতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে। ২০২০ সালে মহামারি অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করার পর সবচেয়ে খারাপ দিনে এসঅ্যান্ডপি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। এশিয়া ও ইউরোপের বাজারগুলো পড়েছে আরও বেশি। ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ কমেছে ১ হাজার ৬৭৯ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশ এবং নাসডাক কম্পোজিট হোচট খেয়েছে ৬ শতাংশ।
কানাডায় এসঅ্যান্ডপি/টিএসএক্স কম্পোজিট সূচক কমেছে ৯৭১ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এই পতন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে বৈশি^ক অর্থনীতি মন্দার দিকে চলে যাওয়ার সাম্প্রতিক উদ্বেগ থেকে। সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে যেসব কোম্পানির শেয়ার তার মধ্যে রয়েছে কানাডিয়ান অ্যাপারেল ব্র্যান্ড আরিটজিয়া এবং লুলুলেমন।
বিদেশের পুঁজিবাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সূচক হারিয়েছে যেগুলো তার মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের সিএসি ৪০। তাদের বৃহস্পতিবার তাদের সূচক কমেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং জার্মানির ডিএএক্স হারিয়েছে ৩ শতাংশ। জাপানের নিক্কেই ২২৫ এর সূচক কমেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ, হং কংয়ের হ্যাং সেনের সূচক কমেছে ১ দশমিক ৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কর্সপি কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানি সবার শেয়ারই মার্কিন ডলারের বিপরীতে অন্য মুদ্রায় দর হারিয়েছে। এমন কি যে স্বর্ণকে সম্প্রতি বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র মনে করছিলেন তার দরও কমেছে।
ট্রাম্পের শুল্কের কারণে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ২৭৪ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৩৯৬ দশমিক ৫২ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১ হাজার ৬৭৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট খুইয়ে ৪০ হাজার ৫৪৫ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে দাঁড়ায় এবং ১ হাজার ৫০ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট হারিয়ে নাসডাক কম্পোজিট সূচক দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৫৫০ দশমিক ৬১ পয়েন্টে।

