
কাজের উদ্দেশে ডজনখানেক দেশে বাস করার কারণে নতুন একটি দেশে কীভাবে শুরু করতে হয় সে ব্যাপারে ভালোই জানা নাইজেরিয়ান বংশোদ্ভূত কিংসলে মাডুর। কিন্তু ২০১৯ সালে যখন তিনি কানাডায় অভিবাসী হন তখন কী করতে হবে সে ব্যাপারে কোনো প্রস্তুতিই তার ছিল না।
জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা ছিল সেটাই। সিবিসি নিউজকে বলছিলেন মাডু। মাডু এবং তার পরিবার টরন্টোর পিয়ারসন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণের পর থেকেই আর্থিক সমস্যা শুরু হয় তার। তার অর্থ থাকলেও কোনো ক্রেডিট কার্ড ছিল না।
অন্টারিওর কিচেনারের এই বাসিন্দা এখন কানাডায় নবাগতদের প্রথম বাইপককেন্দ্রীক ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ তৈরিতে সহায়তা করছেন। যাদের কানাডায় কোনো ক্রেডিট ইতিহাস নেই। এটা তাদেরকে গাড়ি, হোটেল কক্ষ, বাড়ি এবং অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে সহায়তা করবে।
কিংসলে বলেন, আমরা বিশ্বের এমন অঞ্চল থেকে এসেছি যেখানে কোনো ক্রেডিট ইতিহাসের অস্তিত্ব নেই। কিন্তু কানাডার ব্যাংকিং ব্যবস্থা সেটা দেখতে চায়। ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ফোন এমনকি সবকিছুতে আমাদের প্রবেশের ক্ষেত্রে এটাই প্রতিবন্ধকতা।
মাডু বলেন, তারা যখন কানাডায় নামে তখন উবার ভাড়া করতেও পারছিলেন না তিনি। ফলে তাদের লাগেজগুলোও হোটেলে নিতে পারছিলেন না। কারণ, তার কাছে কোনো কানাডিয়ান ক্রেডিট কার্ড ছিল না। পরে মাডু একটি লিমোজিনের জন্য নগদ অর্থ পরিশোধ করেন।
হোটেলে পৌঁছানোর পর তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তার কাছে কোনো ক্রেডিট কার্ড আছে কিনা। এক রাতের জন্য কক্ষ ভাড়া নিলেও তাকে তিনর রাতের অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। একই কারণে মাডু কার ভাড়া করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে কাক্সিক্ষত স্থানে পৌঁছাতে হয়েছিল তাকে।
বাড়ি পাওয়ার পর মাডু সেটি ভাড়া নিতে চাইলেন। কিন্তু বাড়ির মালিক তাকে বলেন, ভাড়া নিতে হলে তার কমপক্ষে ছয় মাসের ক্রেডিট ইতিহাস থাকতে হবে। এটা শুনে মাডু যারপরনাই হতাশ হন। এসবই তাকে অ্যাপ তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করে।

