
গত তিন বছর ধরে কানাডার ইহুদি সম্প্রদায় ইহুদিবিদ্বেষ বেড়ে যাওয়ার ভোগান্তি পুইয়েছে, আগে যা অকল্পনীয় ছিল। কানাডাসহ দেশজুড়ে ইহুদি কণ্ঠস্বরগুলো বাড়তে থাকা এই সংকট সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। যখন এই খবর আসল যে, প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত ইহুদিবিদ্বেষের অবস্থা নিয়ে বক্তব্য দেবেন তখন কানাডার প্রতিটি প্রান্ত রূদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করতে থাকে।
কানাডিয়ান ইহুদিরা যে হুমকির মুখে ছিলেন তার সবই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। গুলি, বোমা হামলার হুমকি, আগুন সন্ত্রাস, সহিংসতা এবং আমাদের রাস্তাগুলোতে প্রকাশ্য শত্রুতা পরিস্থিতির নাজুকতা ইঙ্গিত করে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মঞ্চে ওঠেন এবং তার মন্তব্য সময়ের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়। প্রধানমন্ত্রী যে নিশ্চয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন তা ইহুদি কানাডিয়ানরা ভালোভাবেই জানেন। আমাদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও কল্যাণের সঙ্গে যে ক্রমান্বয়ে আপোষ করা হচ্ছে কার্নিকে তা মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যা অনুপস্থিত তা হচ্ছে, ইহুদি কমিউনিটের বহু মানুষের মনে থাকা প্রশ্নের উত্তর। প্রশ্নটি হলো, ইহুদিবিদ্বেষের জাতীয় সমস্যা মোকাবিলার জন্য যা অবশ্য প্রয়োজনীয় কানাডা কি তা করবে?
সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবনমূলক কোনো পদক্ষেপের ঘোষণা দেননি। তিনি ইহুদিবিদ্বেষ সমস্যার সমাধান করা ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল অন রাইটস, ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ইনক্লুশনের প্রথম দায়িত্ব বলে নির্দেশনা দিয়েছেন। যদিও কাউন্সিলের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এর গঠন ও জনাদেশ নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছিল। এই নির্দেশনা সামলানোর মতো যথেষ্ট সক্ষতা এর রয়েছে কিনা তা ভেবে অনেকই অবাক হয়ে যান।
হেলাল চৌধুরী : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

