
উইন লাস ভেগাস হোটেল লবিতে এক ডেভেলপারের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়া নিয়ে অন্টারিওর এক মন্ত্রীর ইন্টেগ্রিটি কমিশনারকে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে হোটেলে থাকা রেকর্ড মিলছে না বলে জানিয়েছেন হোটেলের তিন কর্মী। তারা বলছেন, প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের সাবেক এক সহযোগীসহ এই দুজন সেই সময় মাসাজ নিচ্ছিলেন। ওই ডেভেলপারের জমি পরবর্তীতে গ্রিনবেল্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মন্ত্রী খালিদ রশিদ ও আমিন মাসুদি হোটেলটিতে গুড লাক রিচুয়াল মাসাজ নেন। ডেভেলপার শাকির নেরহমাতুল্লাহ একই সময়ে অর্থাৎ ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে এনকোরের স্পাতে একটি কাস্টম মাসাজ নেন। হোটেলের জন্য এটা দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল বলে হোটেলের তিন কর্মী বলেন।
রশিদের ইন্টেগ্রিটি কমিশনার জে ডেভিডকে তারিখ দেওয়ার দুই মাস পরের ঘটনা। গ্রিনবেল্টের জমি নেওয়া যাবে এমন তথ্য রেহমাতুল্লাহ কীভাবে জানতে পারলেন সেটি খুঁজে দেখছিলেন জে. ডেভিড। এনডিপি নেতা মারিত টাইলিস বলেন, মন্ত্রী ইন্টেগ্রিটি কমিশনারকে যা বলেছেন তার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আপনাকে সবকিছু থেকে দোষমুক্ত হয়ে আসতে হবে। আপনি যদি কোনো কিছু লুকিয়ে থাকেন তাহলে অন্টারিওবাসীর কাছে আপনাকে পরিচ্ছন্ন্ হয়ে আসতে হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রশিদের মুখপাত্র ডগ অ্যালিংঘাম সিটিভি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, মন্ত্রী রশিদ লাস ভেগাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু শিডিউল জটিলতায় সেটি ২০২০ সালের গোড়ার দিকে করা হয়। ইন্টেগ্রিটি কমিশনারের সঙ্গে যে তথ্য বিনিময় করা হয়েছে সেটি ভুলবশত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের আইটিনারারির ভিত্তিতে। কশিনারের নোটেই এটা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যে, তিনি যে হোটেলে বিল পরিশোধ করেছেন সেটার পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য মন্ত্রী রশিদ একাধিকবার হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের সাড়া পাননি। যখন এ নিয়ে কথাবার্তা চড়ছে তখন এটা জানা যায় যে, ২০১৯ সালের ভ্রমণ পরিবর্তন করে ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষও বিল পরিশোধের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে তাকে ইনভয়েস দেখায়।
মুখপাত্র বলেন, এই তথ্য পাওয়ার পর মন্ত্রী রশিদ রেকর্ড সংশোধনের জন্য ইন্টেগ্রিটি কমশিনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন এবং হোটেলে পরিশোধ করা বিলের প্রমাণ হিসেবে ইনভয়েসটি তাদেরকে দেন। ইন্টেগ্রিটি কমিশনারের কাছে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য এবং রেকর্ড ছিল।
রেহমাতুল্লাহ এ ব্যাপারে সিটিভি নিউজের প্রশ্নের উত্তর দেননি। তবে প্রিমিয়ারের এই স্বঘোষিত বন্ধু বলেছেন, গ্রিনবেল্ট নিয়ে তার পরিকল্পনা অনেক দিনের। এ ছাড়া সিটিভি নিউজের পক্ষ থেকে মাসুদিকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

