শনিবার, মার্চ ২, ২০২৪
4.9 C
Toronto

Latest Posts

হোম ইন্সপেকশনের ১১টি বিষয়

- Advertisement -

বাড়িটির বয়স কত? বাড়ির রুফ বা ছাদ কত বছরের পুরনো? ছাদে কি কোন লিক বা ফুটো আছে? বাড়িটির বিদ্যুতের ওয়্যারিং কি নিরাপদ? প্লাম্বিংয়ের অবস্থাটাই বা কেমন? ইন্সুলেশন কি ঠিকভাবে কাজ করছে? এসি, ফার্নেস, হট ওয়াটার ট্যাঙ্ক এসবের লাইফ এক্সপেক্টেন্সি বা আয়ু আর কতদিন আছে? ক্রেতাদের বাড়ি দেখাতে গেলে এমন আরও অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি আমাকে হতে হয়। বিক্রেতার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনেক প্রশ্নের উত্তর আমি ক্রেতাকে জানাই। কিন্তু এর যথাযথ উত্তর পেতে গেলে প্রয়োজন হোম ইন্সপেকশন রিপোর্ট।

- Advertisement -

আমি মাহবুব ওসমানী, রিয়েল এস্টেট এজেন্ট, রাইট এট হোম রিয়েলটি ব্রোকারেজ। রিয়েল এস্টেট নিয়ে আমার এবারের আলোচ্য বিষয় ‘হোম ইন্সপেকশনের যে ১১টি বিষয় জানা দরকার’।

একজন ক্রেতা তার পছন্দের বাড়িটি কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নিতে চাইবেন। কোন সমস্যাযুক্ত বা বসবাস অনুপযোগী বাড়ি বেশিরভাগ ক্রেতাই কিনতে চাইবেন না। তবে ইনভেস্টরদের ব্যাপার আলাদা। তারা অনেকে সমস্যাযুক্ত বা বসবাস অনুপযোগী বাড়ি কেনেন, কারণ এমন বাড়ি কম দামে পাওয়া যায়। তো এই ক্রেতারা সেসব বাড়ি নিজের মত করে রেনোভেট করেন, সমস্যার সমাধান করেন। পুনরায় বিক্রির জন্য মার্কেটে নিয়ে আসেন এবং বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করেন। কিংবা ভাড়া দিয়ে দেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিক্রেতারা যদি বাড়ির সমস্যা সম্পর্কে জানেন তবে নিজেই প্রি-ইন্সপেকশন করে নিতে পারেন। সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ব্যবস্থাও নিতে পারেন। না হলে ভবিষ্যতে এসব সমস্যা সমাধানে আরও খরচ বাড়তে পারে।

রিয়েল এস্টেট মার্কেট বিশেষজ্ঞদের মতে হোম ইন্সপেকশনের সময় কমপক্ষে ৩৩টি বাহ্যিক সমস্যা সামনে আসতে পারে। এগুলোর মধ্যে মেরামত করতে বেশি খরচ লাগে এমন ১১টি বিশেষ সমস্যা আমি এখানে তুলে ধরছি।

১। ত্রুটিপূর্ণ প্লাম্বিং

প্লাম্বিংয়ে এই ত্রুটি মূলত দুইভাবে দেখা যায়। ক) পানি লিক করা, খ) ক্লগ বা সিঙ্ক, কমোড, বাথটাব ইত্যাদি আটকে যাওয়া। একজন লাইসেন্সড হোম ইন্সপেক্টর এই সমস্যা পর্যবেক্ষণ করবেন। কোথা থেকে লিক হচ্ছে বা কোথায় আটকে যাচ্ছে তা নির্ণয় করবেন। সবগুলো ফসেট বা কলের পানি ছাড়বেন। টয়লেটের ফ্ল্যাশ চালু করবেন। চেক করবেন। এসবের পানির চাপ পর্যবেক্ষণ করবেন। পানির প্রবাহের শব্দ শুনলে তা নির্দেশ করে যে পাইপগুলি ছোট আকারের। কল চালু হওয়ার সাথে সাথে যদি পানি নোংরা দেখায় তবে তার মানে হল পাইপগুলোতে মরিচা ধরেছে। যা পানির গুণগত মানের সমস্যা তৈরি করছে।

২। স্যাঁতসেঁতে বা ভেজা বেজমেন্ট

হোম ইন্সপেক্টর বাড়ির ওয়াল পর্যবেক্ষণ করবেন, কোন ফাটল আছে কিনা তা খুঁজে দেখবেন। বেজমেন্টের ফ্লোর নিরীক্ষা করে দেখবেন কোন স্যাঁতসেঁতে বা ভিজে যাওয়ার অস্তিত্ব পাওয়া যায় কিনা। অনেকেই আজকাল ওয়াটার প্রুফিং করে নেন। খরচে সঙ্কুলান হলে চাইলে আপনি তা করতে পারেন।

৩। অপর্যাপ্ত ওয়্যারিং এবং বৈদ্যুতিক অবস্থা

আপনার বাড়িতে বৈদ্যুতিক সার্ভিস ন্যূনতম ১০০ Amps থাকতে হবে। ওয়্যারিং হতে হবে তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের। হোম ইন্সপেক্টর প্লাগগুলো পরীক্ষা করবেন। সার্কিট ব্রেকার চেক করবেন এবং সম্ভাব্য আগুনের বিপদ থেকে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা জানাবেন।

৪। খারাপ হিটিং এবং কুলিং সিস্টেম

অপর্যাপ্ত ইন্সুলেশন, এবং একটি খারাপভাবে কাজ করা হিটিং সিস্টেম মূলত হিটিং সমস্যার জন্য দায়ী। পরিষ্কার ফার্নেস, মরিচা ছাড়া হিট এক্সচেঞ্জার হলে এর আয়ু আরও বেশিদিন থাকে। হোম ইন্সপেক্টর ফার্নেসের জীবনকাল পরীক্ষা করবেন। মূলত ১৫ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত ফার্নেস কার্যক্ষম থাকে। Forced Air Gas (ফোর্সড এয়ার গ্যাস) ব্যবস্থায় হিট এক্সচেঞ্জার ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এতে ফাটল থাকলে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস নির্গত হতে পারে। এই হিট এক্সচেঞ্জার নষ্ট হলে তা মেরামত না করে আরেকটি নতুন কেনা ভালো।

৫। ছাদের সমস্যা

ছাদ থেকে অনেক কারণে পানি লিক হতে পারে। অ্যাসফল্ট শিঙ্গলসের গুণগত মানের অবনতি হলে এমনটা হয়। যেমন অ্যাসফল্ট শিঙ্গলসের কার্লিং বা বিভাজন দেখা যাওয়া। এছাড়া ঝড়ের কারণে ছাদের যান্ত্রিক ক্ষতিসাধন হওয়া। ছাদের সমস্যার জন্য বাড়ির ভেতরে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৬। স্যাঁতসেঁতে অ্যাটিক স্পেস

বেজমেন্ট স্যাঁতসেঁতে থাকার পাশপাশি ভেন্টিলেশন, ইন্সুলেশন, আদ্রতা বা ময়েসচার, এবং অ্যাটিকে মল্ড সমস্যা ও পানিরকনা জমতে পারে। এর ফলে রুফের ক্ষতি, বিল্ডিংয়ের কাঠামো এবং উপকরণের ক্ষতি হতে পারে। আর তা ঠিক করতে কয়েক হাজার ডলার খরচ হয়ে যেতে পারে।

৭। পচা কাঠ

এটি অনেক জায়গায় ঘটতে পারে (দরজা বা জানালা ফ্রেম, ট্রিম, সাইডিং, ডেক এবং বেড়া)। হোম ইন্সপেক্টর পরীক্ষা করে দেখবেন। বিশেষ করে নতুন পেইন্ট করা কাঠ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।

৮। রাজমিস্ত্রির কাজ

পুরনো ইট পরিবর্তন করে নতুন ইট বসানো খুব ব্যয়বহুল। এটা করলে অনেক সময় বাড়িতে পানি এবং আদ্রতা ঢুকে যেতে পারে। এর কারণে চিমনি ক্লগ হতে পারে। যা ঠিক করা অনেক ব্যয়সাধ্য ব্যাপার।

৯। অনিরাপদ বা ওভারফিউজড বৈদ্যুতিক বর্তনী

বেশি অ্যাম্পেরেজ হলে সার্কিট ব্রেকার পুড়ে গিয়ে আগুনের ঝুঁকি তৈরি হয়। 15 amp অনেক ব্যবহৃত একটি সার্কিট। তবে স্টোভ ও ড্রায়ারের জন্য আরও বেশি Amps দরকার। তবে ফিউজ প্যানেল পরিবর্তন করে সার্কিট প্যানেল চালু করলে অনেক খরচ কমানো যাবে।

১০। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

হোম ইন্সপেক্টর বাড়ির প্রত্যেক দরজার তালা, জানালা, প্যাটিওর দরজা, প্রত্যেক রুমের স্মোক ও কার্বন মনোক্সাইড ডিটেক্টর চেক করবেন। বাড়ি বিক্রির সময় বিক্রেতা এগুলো বিবেচনায় নেবেন।

১১। স্ট্রাকচারাল/ফাউন্ডেশন সমস্যা

হোম ইন্সপেক্টর বাড়ির ফাউন্ডেশন ও স্ট্রাকচার পর্যবেক্ষণ করবেন। মার্কেটে বিক্রির জন্য দেওয়ার পর আপনি এমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে চাইবেন না যেকারণে বাড়ি বিক্রি করতে অনেক খরচ হয়ে যায়।

এই ১১টি বিষয় বিবেচনায় রাখলে বাড়ি বিক্রি করার ন্যূনতম সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যাবে।

বাড়ি কেনা-বেচা সংক্রান্ত যে কোন পরামর্শের জন্য যে কোন সময়ে আমাকে ফোন করতে পারেন:- 647-572-5600 এই নম্বরে। অথবা ই-মেইলেও যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায়- [email protected]। আমি সম্পূর্ণ ফ্রিতে তথ্য দেই এবং এর বিনিময়ে আমার কাছ থেকে বাড়ি কেনা অথবা বেচা বাধ্যতামূলক নয়!
আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবন কামনা করি ।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.