সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২
5.2 C
Toronto

Latest Posts

বাড়ির ক্রেতাদের ৯টি ফাঁদ এড়ানোর উপায়

- Advertisement -
ছবি/ডিলন কীড

আপনি যেভাবেই দেখেন না কেন বাড়ি কেনা কিন্তু একটি প্রধান বিনিয়োগ। তবে অনেক বাড়ির ক্রেতাদের জন্য এটা হতে পারে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া। এর কারণ অনেক ক্রেতারা বাড়ি কিনতে গিয়ে বেশ কিছু সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ভুলের ফাঁদে পা দেয়!

যেমন-
• বিবেচনা না করে বাড়ির যা দাম, তারচেয়েও বেশি দাম দিয়ে দেন
• বিডিংয়ে অন্য ক্রেতাদের কাছে নিজেদের স্বপ্নের বাড়িটি হারিয়ে ফেলেন
• খারাপ বা ভুল বাড়িটি কেনেন
একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাড়ি কেনার এই সাধারণ ফাঁদগুলি থেকে আপনাদের দূরে রাখতে পারে। এর মাধ্যমে আপনাকে কেবল খরচ কমানো নয় বরংআপনার জন্য সবচেয়ে ভালো বাড়িটি সুনিশ্চিত করতে পারে।
এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে সাধারণ এবং ব্যয়বহুল ৯টি ফাঁদ, কীভাবে এগুলোকে শনাক্ত করা যায় এবং এই ফাঁদ থেকে কীভাবে এড়িয়ে চলা যায় সে বিষয়ে।

- Advertisement -

১। বিডিং ব্লাইন্ড-
একটি বাড়িতে বিডিংয়ের সময় কত দামে অফার করা উচিত? বাড়ির বিক্রেতা যে দাম চাচ্ছেন তা কি অনেক বেশি, নাকি কম দামে ভালো ডিল পাচ্ছেন?
নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট লোকেশনে কেমন দামে বাড়ি বিক্রি হচ্ছে এই তুলনামূলক গবেষণা করতে আপনি ব্যর্থ হলে আপনার অফার প্রাইজ হবে একটা বিডিং ব্লাইন্ড, অর্থাৎ অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার মত! বাড়ির বাজার মূল্য জানা না থাকলে, আপনি সহজেই খুব বেশি দামে বিড করতে পারেন, অথবা একটি প্রতিযোগিতামূলক অফার করতেও ব্যর্থ হবেন!

২। ভুল বাড়ি কেনা-
আপনি একটি বাড়িতে কী পেতে চান? একটি যথেষ্ট সহজ প্রশ্ন, কিন্তু উত্তর বেশ জটিল হতে পারে।
বাড়ি কেনার সময় একাধিক ক্রেতা আবেগতারিত বা উত্তেজনার বশে সঠিক বাড়িটি কিনতে ব্যর্থ হন। কাঙ্ক্ষিত বাড়ি না কিনে দেখা যায় হয় অনেক বড় বাড়ি কিনেছেন অথবা চাহিদার চেয়ে ছোট বাড়ির মালিক হয়েছেন। হয়তবা তারা এমন বাড়ি কিনেছেন যেখান থেকে কাজের জায়গা অনেক দূরে, অথবা বাড়িটি মেরামত করতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। কেনার সময় যে উত্তেজনা কাজ করেছিল তা যেন নিমিষেই তখন হারিয়ে যায়।
আপনার ইচ্ছা এবং চাহিদা পরিষ্কারভাবে ঠিক করে নিতে দরকার হলে সময় নিন। একটি জায়গায় সেগুলো লিখে রাখুন। তারপর বাড়ি দেখার সময় এই চেকলিস্টটি সঙ্গে নিন, এবং মিলিয়ে দেখুন যে সেই বাড়িটিই আপনার চাহিদা পূরণ করছে কিনা।

৩। অস্পষ্ট মালিকানা-
বাড়ি কেনার মুহূর্তে খুব দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে যে বাড়ির মালিকানা নিয়ে কোন জটিলতা নেই। আপনার নতুন বাড়ির মালিকানা হবে কোনরকমের জটিলতা মুক্ত।
যেমন, অনেক সময় বাড়িতে ‘Probate’ থাকতে পারে। অর্থাৎ বাড়ির মূল মালিকের উত্তরাধিকাররা সেটি বিক্রি করছেন। এজন্য আদালত থেকে সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন। প্যান্ডেমিকের মধ্যে আমরা দেখেছি আদালত বন্ধ থাকায় এই ‘Probate’ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। যতদিন আদালত রায় না দিবেন ততদিন বাড়ির মালিকানা হস্তান্তর হবে না।
ক্রেতার রিয়েল এস্টেট এজেন্টের পাশাপাশি আইনজীবীকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। রিয়েল এস্টেটের পরিভাষায় একে বলে টাইটেল সার্চ। এসময় বাড়ির ওপর কোন বাড়তি ট্যাক্স বা কারো কাছে বন্ধক আছে কিনা, ভাড়াটিয়াসহ মালিকানা হস্তান্তর হচ্ছে কিনা, লিজ দেওয়া আছে কিনা ইত্যাদি বিষয়ও খতিয়ে দেখতে হবে। আপনার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এই বিষয়ে আপনাকে সহযোগিতা করতে পারেন।

৪। ভুল জরিপ-
বাড়ি কেনার সময় বিক্রেতার কাছে সার্ভে বা জরিপ চাইতে পারেন। যদিও বিক্রেতা তা দিতে বাধ্য নন। বেশিরভাগ সময় তাদের কাছে এটি থাকে না। তবে আপনি চাইলে ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে যোগাযোগ করে সংগ্রহ করে নিতে পারেন।
অনেক সময় দেখবেন জরিপে নেই কিন্তু বাড়ির বিক্রেতা বাড়িতে অনেক কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করেছেন। কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছেন, নতুন সুইমিং পুল করেছেন, বা প্রতিবেশীর নতুন দেয়াল হয়ত আপনার বাড়ির সীমানায় ঢুকে পড়েছে। তো এই বিষয়গুলোতে আগে থেকে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।

৫। অপ্রকাশিত ফিক্স-আপ-
বিক্রেতাদের কাছে আপনি এটা আশা করবেন না যে তার বাড়িটির সব খুঁটিনাটি বিষয় তিনি প্রকাশ করবেন। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই কিন্তু সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করছেন। এজন্য ভালো হয় যদি আগে থেকে আপনি হোম ইন্সপেকশন করে নিতে পারেন। এজন্য একজন অভিজ্ঞ ইন্সপেক্টরকে নিয়োগ দিন। তিনি বাড়ির ভেতরে ও বাইরে নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করে আপনাকে রিপোর্ট দিবেন। এই রিপোর্টের ওপর বিবেচনা করে আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন। ইন্সপেক্টর আপনাকে বলতে পারবেন বাড়ির কোন কোন বিষয়গুলো ঠিক করতে হবে, এতে আনুমানিক খরচ কেমন হতে পারে।
যদিও সেলারস মার্কেট, অর্থাৎ যেখানে অনেক বায়ার একটি বাড়ি কেনার জন্য প্রতিযোগিতা করেন, সেখানে বাড়িটি কেনার সময় এই হোম ইন্সপেকশন খাটে না। বরং অপ্রকাশিত ফিক্স-আপের খরচ মাথায় রেখেই বাড়ি কিনতে হয়। এসময় একজন অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত রিয়েল এস্টেট এজেন্ট আপনাকে সুপরামর্শ দিতে পারবেন।

৬। মর্টগেজ প্রি-এপ্রুভাল না নেওয়া-
প্রি-এপ্রুভাল দ্রুত, সহজ এবং বিনামূল্যে পাওয়া যায়। প্রি-এপ্রুভাল নেওয়া থাকলে আপনি স্বাধীন এবং নিরাপদভাবে আপনার বাড়িটি কিনতে পারবেন। কারণ আপনি তখন জানেন যে আপনার স্বপ্নের বাড়িটি কেনার জন্য ব্যাংক ইতোমধ্যে আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ মর্টগেজের অনুমোদন দিয়েছে।

৭। চুক্তি মিস হওয়া-
একটি বাড়ি কেনার সময় বিক্রেতা হয়ত জানালো যে সে কিছু বিষয় মেরামত করে দিবে। কিন্তু দেখা গেল ক্লোজিং এর তারিখেও সে তা করে উঠতে পারেনি। এতে করে ক্লোজিং এর তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে। বিক্রেতার অবহেলার জন্য ক্রেতা যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তার একটি তালিকা করে ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারেন।
যেমন- বিক্রেতা হয়ত বলেছিলেন তিনি প্রতিবেশি সীমান্তে ভেঙ্গে পড়া দেয়াল ঠিক করে দেবেন। কিন্তু ক্লোজিংয়ের তারিখেও তা করলেন না। তখন এজন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া যেতে পারে।

৮। Hidden Costs বা লুকানো খরচ-
সময় থাকতেই ছোট-বড় সবরকমের খরচ নিশ্চিত হয়ে নিন। বাড়ির লেনদেন ক্লোজিংয়ের দিনে দেখবেন এটা-সেটা অনেক খরচ সামনে চলে আসতে পারে।

যেমন- বিক্রেতা আগে থেকে বছরের প্রোপার্টি ট্যাক্স পুরোটা শোধ করেছেন। এখন বাড়তি অর্থ তাকে ফেরত দিতে হবে। অথবা- ফারনেস, বা ওয়াটার ট্যাঙ্ক Buyout করতে হবে। তখন বাড়তি অর্থ প্রয়োজন।

এজন্য আগে থেকে এই খরচের তালিকাটা জানা থাকলে ভালো। না হলে ক্লোজিংয়ের তারিখে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
৯। Rushing the Closing অর্থাৎ ক্লোজিংয়ের দিন তাড়াহুড়ো করা-

ক্লোজিংয়ের দিন তাড়াহুড়ো করবেন না। এদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগে থেকে সময় নিয়ে মর্টগেজ ও অন্যান্য দলিলপত্র বুঝে নিন। এরপর স্বাক্ষর করুন।

পুরো ব্যয়ের হিসাব যাচাই করে নিন। ব্যাংকের মর্টগেজ রেট ঠিক আছে কিনা, ভেরিয়েবল নাকি ফিক্সড, মাসে কত করে মর্টগেজ দিতে হবে, কত বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে ইত্যাদি বিষয় দেখে নিন। ক্লোজিংয়ের দিন এসব বিষয় যাচাই করতে গেলে দেখবেন শেষ মুহূর্তে কোন ভুল বের হল যা ঠিক করতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
আপনারা যারা বাড়ি কিনবেন তারা ভেবে-চিন্তে, মার্কেট এনালাইসিস করে তারপর রিয়েল এস্টেট মার্কেটে ঢুকবেন। এজন্য বিশ্বস্ত, মার্কেট সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন এমন একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্টের পরামর্শ নিতে পারেন।
বাড়ি কেনা-বেচা সংক্রান্ত যে কোন পরামর্শের জন্য যে কোন সময়ে আমাকে ফোন করতে পারেন:- 647-572-5600 এই নম্বরে। অথবা ই-মেইলেও যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায়- [email protected]। আমার ওয়েবসাইট www.MahbubOsmani.com । আমি সম্পূর্ণ ফ্রিতে তথ্য দেই এবং এর বিনিময়ে আমার কাছ থেকে বাড়ি কেনা অথবা বেচা বাধ্যতামূলক নয়!

আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবন কামনা করি ।

 

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.