বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৮, ২০২২
27.2 C
Toronto

Latest Posts

পদ্মা সেতুর জয় এবং জ্ঞানপাপী জনবিচ্ছিন্ন বুকিস বুদ্ধিজীবীদের পরাজয়

- Advertisement -
ছবি/ সৌজন্যে জাফর ওয়াজেদ

নিন্দুকদের মুখে ছাই দিয়ে অবশেষে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।
পাঠক আসুন একটু পেছন ফিরে তাকাই।

এই পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিয়ে কী ভয়ংকর অসম্মানজনক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে।

- Advertisement -

নিয়ম বহির্ভূত ভাবে গ্রামীন ব্যাংকের এমডির পদ দখল করে রাখা প্রফেসর ইউনুসকে সরকার তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটনকে দিয়ে ইউএস ইউএস প্রশাসনের প্রভাব ব্যবহার করে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে তৎপর হন এবং বিশ্বব্যাংককে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বাতিল করাতে সমর্থ হন। বাংলাদেশকে তখন এক অসম্মানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছিলো।
পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি হিলারী ক্লিনটনকে খুশি করতে ইউনুস হিলারীর ফাউন্ডেশনে তিন লাখ ডলার অনুদান (বা ঘুষ) হিশেবে পাঠিয়েছিলেন!

শুধু তাই নয়, ইউনুসের কূটচালের অংশ হিশেবে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে কানাডিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাভালিনের বিরুদ্ধে একটি মামলাও ঠুকে দেয়া হয় কানাডার আদালতে। যথারীতি এই মামলার পর চারিদিকে হৈচৈ পড়ে যায়। বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু কানাডার আদলতে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করতে পারে না। কানাডার আদালত তাই বিশ্বব্যাংক কর্তৃক আনীত অভিযোগ মিথ্যে বলে রায় দেয়।

এবং বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের সম্মান রক্ষায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংকের সাহায্য ছাড়াই দেশের নিজস্ব অর্থায়ণে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। সেই সময় বাংলাদেশের কিছু সুশীল বুদ্ধিজীবী এবং এনজিও ব্যবসায়ী জোট বেঁধে পদ্মা সেতুর বিরোধিতায় নেমেছিলেন।

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধের পর কে কি বলেছিলেন তার দিকে একটু দৃষ্টি ফেরানো যাক–
” [খালেদা জিয়া, (২ জানুয়ারি ২০১৮) পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। কিন্তু পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। এ সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এ সেতুতে কেউ উঠবেন না। অনেক রিস্ক আছে।
…এই সেতু ভেঙে যাবে।

ড. আকবর আলি খান, (১ জুলাই ২০১২, দৈনিক সংগ্রাম) বিশ্ব ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের পক্ষে পরবর্তীতে ঋণ সহায়তা পাওয়া খুব দুষ্কর হয়ে পড়বে। যখনই কোন দাতা সংস্থা কোন নতুন প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহী হবে, তারা দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশকে ভিন্ন চোখে দেখবে। সরকার যদি বিকল্প অর্থায়নে পদ্মা সেতু কাজ শুরু করে, তাহলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে, কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে। ……দক্ষভাবে সেতুটি নির্মাণের জন্যই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।

ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম ( সাবেক উপদেষ্টা তত্বাবধায়ক সরকার, ১৩ এপ্রিল ২০১২, বিডিনিউজ২৪) এখনো বিশ্বব্যাংকের ঋণে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব এবং সরকারের সেটাই করা উচিৎ।
ড. এম মনিরুজ্জামান মিয়া,(সাবেক ভিসি, ০৩ জুলাই ২০১২, দৈনিক যুগান্তর) পদ্মা সেতু থেকে যেহেতু বিশ্বব্যাংক সরে গেছে, অন্য দাতা গোষ্ঠীও সরে যাবে এটাই স্বাভাবিক।
ড. এমাজউদ্দীন আহমদ,(সাবেক ভিসি, ১৩ জুলাই ২০১২, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা) নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর বিষয়টি হাস্যকর ও অবাস্তব ব্যাপার।
বদরুদ্দিন উমর (২৩ সেপ্টেম্বর ২০১২, দৈনিক যুগান্তর) নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ কোনো ব্যাপারই নয় বলে প্রধানমন্ত্রী যে আস্ফালন করেছিলেন সেটা যে কতো হাস্যকর ও অবাস্তব ছিলো এ নিয়ে এখন আর কারো দ্বিমত থাকার উপায় নেই।

ড. ইফতেখারুজ্জামান, (নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি) বিকল্প উৎস হতে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন করতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা (দুর্নীতির অভিযোগের ওপর থেকে) দৃষ্টি সরানোর উপায় বলে মনে হতে পারে। যদি এই সিদ্ধান্ত সফলও হয় তাতেও সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে না।
ড. আহসান এইচ মনসুর, (পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক, ১ জুলাই ২০১২), পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করতে পারলেও শেষ করার গ্যারান্টি থাকবে না।… এই মুহূর্তে সরকার নিজস্ব অর্থে করতে গেলে ডলারের দাম আরও বেড়ে যাবে এবং টাকার মান ব্যাপকভাবে কমে যাবে। বাড়বে অযাচিত মুদ্রাস্ফীতি।’

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, (সিপিডির ফেলো, ১৩ জুলাই ২০১২, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা) তাড়াহুড়া না করে আরেকটু রয়েসয়ে পদ্মা সেতু নিয়ে ভাবতে হবে এবং আগের দাতাদেরই এ প্রকল্পে ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ……এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন, যা জোগান দিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ পড়বে। এর দায় সরকার এড়াতে পারবে না। ……তবে এজন্য তাদেরও ভয়ঙ্কর নতুন সমস্যায় পড়তে হবে।
ড. মোস্তাফিজুর রহমান (সিপিডির ফেলো) এই মুহূর্তে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু শুরু করা হলে দেশের অন্যসব অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যে কাজগুলো করা যেত সেগুলো আর হবে না।

ড. সালেহ উদ্দীন, (প্রাক্তন গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংক), নিজ অর্থায়নে সরকার পদ্মা সেতু করার যে পরিকল্পনা করেছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে সরকার ইচ্ছা করলে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারবে; কিন্তু শেষ করতে পারবে না।

বদিউল আলম মজুমদার, (এনজিও ব্যবসায়ী) দুর্নীতি আমাদের কীভাবে পেছনে নিয়ে যাচ্ছে তার আরেকটি উদাহরণ এটি(পদ্মা সেতু)। জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।
শাহদীন মালিক (আইনজীবী) পদ্মা সেতু দেশি অর্থায়নে হবে না, সম্ভব নয়। ] ”

দেশের মানুষ নিয়মিত টিভি পর্দায় এইসমস্ত সুশীলের অযৌক্তিক আস্ফালন ও বানরনাচ প্রত্যক্ষ্য করেছে।
সাংবাদিক সম্মেলন করে তাঁরা সম্মিলিত হুক্কাহুয়ায় মেতেছেন, পত্রিকার পাতায় দেশবাসী তাঁদের প্রেসক্রিপশন পাঠ করেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশী ফান্ডের খুদ-কুড়োয় বাঁচা এইসব বুদ্ধিজীবীদের কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কাজটি করে গেছেন।

০২
লেখক আহমদ ছফার একটি মন্তব্য এখানে উদ্ধৃত করতে মন চাইছে।
১৯৭২ সালে প্রকাশিত ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক গ্রন্থের শুরুতেই তিনি বলেছিলেন–”বুদ্ধিজীবীরা যা বলতেন, শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। এখন যা বলছেন, শুনলে বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তন হবে না।

আগে বুদ্ধিজীবীরা পাকিস্তানী ছিলেন, বিশ্বাসের কারণে নয়–প্রয়োজনে। এখন অধিকাংশ বাঙালী হয়েছেন, সেও ঠেলায় পড়ে। কলাবরেটরদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা অন্ধভাবে হলেও ইসলাম, পাকিস্তান ইত্যাদিতে সত্যি সত্যি বিশ্বাস করে। আবার স্বাধীন বাংলাদেশের চতুঃস্তম্ভের জয়ধ্বনি দিচ্ছেন, এমন অনেক বুদ্ধিজীবী রয়েছেন, যারা সারা জীবন কোনো কিছুতে যদি নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করতে পেরেছেন সে বস্তুটির নাম সুবিধাবাদ।”
আমরা দেখেছি, ছফা বর্ণিত বা চিহ্নিত সুবিধাবাদীরা চিরকাল একই চরিত্রের।

পদ্মা সেতু বিষয়ে অর্থনীতির পুস্তকে ঘাড় গুঁজে সংজ্ঞা মুখস্ত করা বুকিস অর্থনীতিবিদদের সমস্ত ভবিষ্যৎবাণীকে দু’পয়সা মূল্যও দেননি দৃঢ়চেতা সাহসী নেত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বছরের পর বছর সুবিধাবাদী জনবিচ্ছিন্ন নামের আগে ড. যুক্ত এইসব বুকিস জ্ঞানপাপীদের বহু অসম্মান, অপমান, অপবাদ, কটূক্তি আর ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ চালিয়ে গেছেন। অবশেষে তাঁর জেদ তাঁর দূরদর্শিতা এবং অতুলনীয় নেতৃত্বের কাছে পরাজিত হয়েছেন দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তথাকথিত সুশীল বুদ্ধিজীবী ও এনজিও ব্যাবসায়ীরা।
বাংলাদেশ জয়ী হয়েছে।

জয়ী হয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশের জনগণ।
অটোয়া ২৩ জুন ২০২২

 

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.