
অত্যন্ত আনন্দ, উৎসাহ, উদ্দীপনা, আর প্রাণচাঞ্চল্যতার সাথে উদযাপিত হলো রূপতনু মিউজিক একাডেমী (টরন্টো) এর প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। হোপ ইউনাইটেড চার্চ মিলনায়তনে গত রবিবার অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া আয়োজনটির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ, প্রসিদ্ধ সংস্কৃতিগুরু রুপতনু শর্মা এক অনন্য, শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চার প্লাটফর্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন টরন্টোবাসিকে। সৃষ্টি করেছেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একই মঞ্চে দশটি কিবোর্ডের এক সুরে সুর মেলানো, সাথে কণ্ঠশিল্পী, গিটার, তবলা, বাঁশি, সকল কিছুর নিখুঁত মিশ্রিত অবগাহন অনুষ্ঠানটিকে একটি অনন্যতা দিয়েছে। বোধকরি এটিই ছিল উপস্থিত দর্শকদের প্রত্যক্ষ করা সম্পূর্ণ বাঙ্গালীদের পরিবেশনায় এই বিদেশ বিভূঁইয়ে প্রথম এক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন, প্রশিক্ষণ আর পরিকল্পনায় রূপতনু শর্মা, তাঁর সুদূরদর্শীতা আর অত্যন্ত নিপুণতার পরিচয় দিয়েছেন এবং মুগ্ধ করেছেন উপস্থিত সুধীমণ্ডলীকে। যেই অস্থির সময়ে সমগ্র বিশ্ব মেতে রয়েছে নানান রকমের অরাজকতায়, সেই সময়টিতে রূপতনু মিউজিক একাডেমীর সুস্থ সঙ্গীত পরিবেশনার প্রতি হলভর্তি দর্শকের আগ্রহ, আকর্ষণ, মুগ্ধতা, উচ্ছলতা, আর উপস্থিতি সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার প্রতি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সৃষ্টি লগ্ন থেকেই তাই দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে রূপতনু মিউজিক একাডেমী।
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ শহরের সংস্কৃতিপ্রেমী অসংখ্য বাঙ্গালীর আস্থা আর ভালবাসায় জায়গা করে নিয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে নবীন-প্রবীণ সকল বয়স-আর পেশার শিক্ষার্থীদের সঙ্গীতশিক্ষার ক্ষেত্রে রূপতনু মিউজিক একাডেমী এগিয়ে নিয়ে চলেছে সকল সঙ্গীতপ্রেমীদের। ১৯৭৭ সাল থেকে শুরু করে একে একে বহু বছর ধরে সঙ্গীতে প্রেসিডেন্ট পদকপ্রাপ্ত রূপতনু শর্মা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কলকাতার দেবাশীষ সাহার কাছ থেকে কীবোর্ড শিক্ষা শুরু করেন। টরন্টো শহরে তিনিই প্রথম কিবোর্ড শেখানোর জন্য এরকম বড় আকারের একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। শুধু কিবোর্ডই নয়, তিনি একাধারে সঙ্গীতেও প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য যন্ত্রসঙ্গীতে প্রশিক্ষণেরও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানটি আলোকিত করেন এমপিপি ডলি বেগম সহ শহরের অনেক জ্ঞানী, গুণী, আর সম্মানিত ব্যাক্তিত্ত।
অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী তপন চৌধুরী এবং সকলের পূজনীয় গীটারশিল্পী এনামুল কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফিডব্যাক ব্যান্ডের শিল্পী মাকসুদ। স্থানীয় প্রায় সকল কণ্ঠ এবং যন্ত্রশিল্পীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি একটি তারকাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। অনুষ্ঠানটিতে রূপতনু শর্মার পরিচালনায় শিশুশিল্পীরা গান পরিবেশন করেন, বাজিয়ে শোনান কিবোর্ড। প্রতিষ্ঠানটির শিশুশিল্পীদের পরিবেশনার পরপরই অনুষ্ঠানটিতে গান এবং কিবোর্ড পরিবেশন করে শোনান একে একে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য শিক্ষার্থীরা, যাঁদের প্রতিটি পরিবেশনাই প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ, রূপতনু শর্মার পরিচালনায় পরিবেশিত হয়েছে। মনোরম এই অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয় অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে, যেখানে বংশীবাদক, গিটারবাদক, দোতরাবাদক, এবং গুণী আরও অনেক যন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে সমৃদ্ধ করেছে। পুরো অনুষ্ঠানটিজুড়ে তবলায় সঙ্গত করেন প্রসিদ্ধ তবলাশিল্পী রনি পালমার এবং কিবোর্ডশিল্পী নির্ঝর বড়ুয়া, শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন মামুন, আর সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ রূপতনু শর্মার পাশাপাশি প্রাণবন্ত উপস্থাপিকা জ্যোতি। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে অনুষ্ঠানটিতে প্রবীণ হাওয়াইয়ান গিটারবাদক, কিংবদন্তীসরূপ শিল্পী এনামুল কবিরের দেশের গানের রেশ রয়ে গিয়েছিল পুরো অনুষ্ঠানটি জুড়েই, আর সমাপ্তিতে বাংলা গানের আরেক কিংবদন্তী শিল্পী, তপন চৌধুরীর ‘এই মুখরিত জীবনের চলার বাঁকে’ গানটির সাথে সুর মিলিয়ে মেতে উঠেছিল পুরোটি মিলনায়তন। রূপতনু মিউজিক একাডেমীর উত্তরোত্তর উন্নতি আর মঙ্গল কামনা করেই অনুষ্ঠানটির হলত্যাগ করেন উপস্থিত দর্শকেরা।

