ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের ভ্রমণকারীদের কানাডায় আসতে কোভিড-১৯ পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়ার প্রয়োজন নেই। ফেডারেল সরকারের সূত্র মারফত এ তথ্য জানা গেছে। ১ এপ্রিল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।
পর্যটন মৌসুমে একে ভালো সংবাদই বলতে হবে বলে জানান কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও কানাডিয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম রাউন্ডটেবিলের কো-চেয়ার পেরিন বেটি। তিনি বলেন, গত দুই বছরে আমরা আন্তর্জাতিক পর্যটন ও প্রথাগত বাণিজ্যে ধস দেখতে পেয়েছি। গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমেও আমরা তা হারাতে বসেছিলাম। সীমান্তে ঝামেলা দূর করতে সরকার কিছু করলে মানুষ অন্য কোথাও যাওয়ার পরিবর্তে কানাডায় আসতে উদ্বুদ্ধ হবে।
এর ফলে সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক অবকাশ যাপন শেষে কানাডিয়ানদেরও দেশে ফেরা সহজ হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জঁ-ইভস ডুকল ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তুলনামূলক ব্যয়বহুল সময়সাপেক্ষ মলিকিউলার টেস্টের পরিবর্তে কানাডায় আসা ভ্রমণকারীরা সীমান্তে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে নেগেটিভ ফলাফল প্রদর্শন করতে পারবেন। এপিডিমিওলজিক্যাল পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকলে, হাসপাতালে ভর্তির হার কমলে ও কানাডিয়ানরা বুস্টার ডোজ নিতে থাকলে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত ভ্রমণ বিধিনিষেধ আরও শিথিল করার কথা বিবেচনা করা হবে।
মহামারি মোকাবেলার মতো যথেষ্ট ব্যবস্থা কানাডার থাকায় কঠোর বিধিনিষেধ থেকে সরকার সরে আসবে বলেও সে সময় জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব ব্যবস্থার মধ্যে আছে সার্ভিল্যান্স, উচ্চ হারে ভ্যাকসিনেশন, ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা, হাসপাতাল ও হাসপাতালের বাইরে থেরাপিউটিক চিকিৎসা এবং র্যাপিড টেস্টের সুবিধঅ বৃদ্ধি।
যুক্তরাজ্য ভ্যাকসিন গ্রহণসহ কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে এখনও কোভিড নেগেটিভ সনদ প্রদর্শন করতে হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কানাডায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকলেও ইউরোপ ও বিশে^র অন্যন্য অঞ্চলে তা বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বৈশি^ক সাপ্তাহিক সংক্রমণ ৮ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে আমেরিকায় সংক্রমণ কমেছে ২০ শতাংশ। নতুন করে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানিতে।
বেটি বলেন, গত দুই বছরে কোভিড-১৯ ঢেউ উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে গেলেও বিধিনিষেধ বাড়ানো ও শিথিল করার ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা ছিল পশ্চাৎপদ। আশা করি হেমন্তকে ঘিরে সরকার এমন প্রস্তুতি নেবে সংক্রমণ বাড়লেও যাতে কঠোর বিধিনিষেধ ও লকডাউন ছাড়াই কানাডা তা মোকাবেলা করতে পারে।