
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক পোস্টের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন নিপিয়ানের এমপিপি লিসা ম্যাকলিয়ড। পোস্টে তিনি দাবি করেছেন যে, তার আসনে এমন একজন প্রতিযোগিতা করছেন, যিনি শরীয়া আইনের সমর্থক।
গত ৭ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পোস্টটি করেন বিদায়ী প্রোগ্রেসিভ কনজার্ভেটিভ এমপিপি ম্যাকলিয়ড। পোস্টে হুসেইন আবু-রায়াশের ওয়েবসাইটের একটি লিঙ্কও জুড়ে দেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হে নিপিয়ান? আপনারা যদি শরীয়া আইন সমর্থন করেন তাহলে নিপিয়ানদের জন্য পরবর্তী পিসি প্রার্থী হবেন……।’
শরীয়া হচ্ছে ধর্মীয় আইনের একটি পর্ষদ, যা ইসলামী বিশ্বাসের অংশ। এর ভিত্তি কোরান এবং মুসলমানদের ধর্মীয় টেক্সট।
পরবর্তীতে মুছে দেওয়া পোস্টে লিসা ম্যাকলিয়ড নিপিয়নে তার আসনে মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করা ব্যক্তি শরীয়া আইন প্রচার করতে চান বলে অভিযোগ করেন। আবু-রায়াশ এ জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন। সেই সঙ্গে পোস্টটি যাতে মুছে ফেলা হয় সেই দাবিও তোলেন। তিনি বলেন, ম্যাকলিয়ড মানহানীর জন্য আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে পারেন।
নিপিয়ান রাইডিংয়ে প্রোগ্রেসিভ কনজার্ভেটিভ পার্টি থেকে মনোনয়নের চেষ্টা করছেন আবু-রায়াশ। ২০২৪ সালে ম্যাকলিয়ড ঘোষণা দেন যে, তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেবেন না। ২০০৬ সাল থেকে তিনি রাইডিংটির প্রতিনিধিত্ব করছেন।
পরদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আবু-রায়াশ বলেন, আমার বিরুদ্ধে অবমাননাকর, বিদ্বেষপূর্ণ এসলামোফোবিক বয়ান থৈরি করে ম্যাকলিয়ড নিপিয়ানের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন, যা খুবই হতাশাজনক। আমি একজন গর্বিত কনজার্ভেটিভ, মুসলিম এবং সাবেক রিজার্ভিস্ট, সব সময়ই যে আমাদের এই সুন্দর দেশটিতে অবদান রাখার চেষ্টা করেছে। আমি ভীত নই এবং কাউকে আমার সুনাম ও সততা প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দেব না।
ম্যাকলিয়ডের বিরুদ্ধে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযেগা এনে তিনি বলেন, সময় এসেছে তার সরে যাওয়ার এবং কে তাদের প্রার্থী হবেন নিপিয়ানদের সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া।
ম্যাকলিয়ড তার মন্তব্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, কাউকে বিভ্রান্ত বা আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। তবে তার মন্তব্য যে যথোপযুক্ত ছিল না সেটা তিনি স্বীকার করছেন। আমি নিজেও অন্যায় মন্তব্যের শিকার হয়েছি এবং আরও ভালো করা উচিত ছিল। এই অভিজ্ঞতা আমাকে সুচিন্তিত ও সঠিক যোগাযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
দ্য ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমসও ম্যাকলিয়ডের এই মন্তব্যের জন্য গভীরভাবে হতাশা প্রকাশ করেছে।

